• মুখ্যমন্ত্রী গুন্ডামি করেছেন! এরপর রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে কিছুই বলার থাকবেনা: বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য
    ২৪ ঘন্টা | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • মৌমিতা চক্রবর্তী: শীতের শহরে হাওয়া গরম। ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাকের (ED raids IPAC Office) দুটি অফিসে হানা দিল ইডি। বাদ গেল না লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়িও। খবর পেয়েই প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এরপর চলে যান সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে। এরপর প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরেই সেখানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। 

    সকালে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌছনোর কিছুক্ষণ পরই বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। হাতে সবুজ ফাইল। কোথায় থেকে এল এই ফাইল? ফাইলে কী আছে? বিরোধীরা যখন প্রশ্ন তুলেছে, তখন হাইকোর্টে যাচ্ছে ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, 'সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন। দু'টি জায়গায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই আমাদের এই তল্লাশি অভিযান চলছিল।' 

    আর এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলেছে। বিরোধীরা একযোগে মুখ্যমন্ত্রীর এই কাজের তীব্র নিন্দা করেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার আইপ্যাক কাণ্ডে বিস্ফোরক বক্তব্যে বলেছেন, 'মুখ্যমন্ত্রী একজন দাগি অপরাধী'। তিনি বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যে ছিনতাইবাজ, এটা কিন্তু আমাদের জানা ছিল। আজকের ঘটনা প্রমাণ করল, মুখ্যমন্ত্রী পাকা ক্রিমিনাল'। সুকান্ত বলেন, 'ফাইল ছিনতাই করে নিয়ে চলে গেল! শুধু তাই নয়, তিনি একটি গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন। সেই গাড়ির নম্বর যাতে ক্যামেরার সামনে না পড়ে, তৃণমূলকর্মী বা পুলিসের কেউ হাত তুলে যীশুখ্রিষ্ট হয়ে ওই নম্বর ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যে ছিনতাইবাজ, এটা কিন্তু আমাদের জানা ছিল। আজকের ঘটনা প্রমাণ করল, মুখ্যমন্ত্রী পাকা ক্রিমিনাল। তথ্য়-প্রমাণ লোপাট করার বুদ্ধি তো ক্রিমিনালদের কাছে থাকে, দাগি ক্রিমিনাল যাকে বলে। মুখ্যমন্ত্রী একজন দাগি অপরাধী।  ভারতবর্ষের ইতিহাসে এইরকম কার্যকলাপ কোনও মুখ্যমন্ত্রী কখনও করেননি'।

    এই বিষয়ে, আইনজীবি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash ranjan Bhattacharya) বলেছেন, 'মুখ্যমন্ত্রী গুন্ডামি করেছেন। উনি চাইছেন রাষ্ট্রপতি শাসন হোক। ভুলে যাচ্ছেন, এই রাজ্যে কিন্তু ইডি সিবিআই তদন্ত সরকারের ইচ্ছায় হচ্ছেনা, আদালতের রায়ে হচ্ছে। ওনার কথা উনি আদালতের মাধ্যমে বলতে পারতেন তা না করে উনি যেটা করেছেন, করছেন সেটা গুন্ডামি। মুখ্যমন্ত্রীর এটা আচরণ নয়। বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে উনি পারদর্শী। দেশের সব দলকে বুঝতে হবে এই রাজ্যে তদন্ত হচৃছে আদালতের নির্দেশে। পুলিস কেন ওখানে গেল? তার জবাবদিহি করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত হলেই উনি রাস্তায় নেমে পড়েন।। এমন সব কাজ করছেন যাতে রাষ্ট্রপতি শাসন হয়। কালকের পর রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে কিছুই বলার থাকবেনা। কি পরিস্থিতি এটা। মমতা তার দলকে এভাবেই তৈরি করেছেন। গোটা দেশের কাছে লজ্জার পরিস্থিতি করেছেন। পালাবার পথ খুঁজছেন। ইডি চাইলেই ওখানে গ্রেফতার করতে পারত। সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান'।

    আজ রাজ্য জুড়ে এই নিয়ে তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিল। যাদবপুর থেকে রাসবিহারী হয়ে হাজরা মোড় অবধি। হাইকোর্টে ইডি এবং তৃণমূল দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আজ তার শুনানি। 

    ED-র(Enforcement Directorate)  বিরুদ্ধে শেক্সপিয়ার সরণি থাকায় অভিযোগ করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। কার্যত নজরবিহীনভাবেই কোন মামলায় অভিযোগকারী হলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। প্রতীক জৈন এর বাড়িতে ইডি তল্লাশি কাণ্ডে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে শেক্সপিয়ার সরণী থানায়। একটি মামলায় অভিযোগকারী খোদ মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে চুরি, জোরপূর্বক অনুমতি না নিয়ে প্রবেশ ও ইলেক্ট্রনিক এভিডেন্স চুরির ধারা যোগ করা হয়েছে। দ্বিতীয় মামলা পুলিস স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দায়ের করেছে। এখানে পুলিসের কাজে বাধা জোরপূর্বক আটকে রাখার ধারায় মামলা হয়েছে। দুটি মামলায় অজ্ঞাত পরিচিতর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে মামলা। ইডির কোনও অফিসারের নাম নেই দুটি মামলাতেই।

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)