প্রশ্নফাঁসে যোগীর উত্তরপ্রদেশে বাতিল অধ্যাপক নিয়োগের পরীক্ষা, কাঠগড়ায় সরকারি আধিকারিকরাই
প্রতিদিন | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলায় নিয়োগ ‘দুর্নীতি’ নিয়ে রোজ গলা ফাটাচ্ছে বিজেপি। রাজ্যে সুষ্ঠু নিয়োগ না হওয়ার অভিযোগে রোজ তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলছে গেরুয়া শিবির। অথচ সেই গেরুয়া শিবিরের ‘মডেল’ রাজ্য উত্তরপ্রদেশেই এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড়সড় গলদ। পরিস্থিতি এমনই যে সহকারী অধ্যাপকের পরীক্ষা বাতিল (UP Assistant Professor Exam Cancelled) করার নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার।
গত বছর ১৬ ও ১৭ এপ্রিল উত্তরপ্রদেশের হাজারের বেশি সহকারী অধ্যাপক পদের জন্য নিয়োগের পরীক্ষা নেয় উত্তরপ্রদেশ এডুকেশন সার্ভিস সিলেকশন কমিশন। পরীক্ষার প্রায় ৭ মাস বাদে আচমকা সেটা বাতিল করা হল। অভিযোগ, ওই পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস হয়েছে। এবং তাতে জড়িত ছিলেন সচিব পর্যায়ের আধিকারিকরা বা তাঁদের ঘনিষ্ঠরা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অনিয়ম হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে প্রশাসন। আটক করা হয়েছে তিনজনকে। সে রাজ্যের এসটিএফ এই পরীক্ষায় গুরুতর অনিয়মের খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে জানানোর পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় এফআইআর জমা পড়ে লখনউয়ের বিভূতিখণ্ড থানায় যে, কয়েক জন টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের দিয়েছে।
তার পরই তদন্তে নেমে মেহবুব আলি, বৈজনাথ পাল এবং বিনয় পাল নামে তিনজনকে আটক করা হয়। পুরো ঘটনা ২০ এপ্রিলের। পরে জানা যায়, এদের মধ্যে মেহেবুব আলি আবার উত্তরপ্রদেশ এডুকেশন সার্ভিস সিলেকশন কমিশনের তৎকালীন সচিব কীর্তি পাণ্ডের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সেই কীর্তি পাণ্ডেকে তখনই ইস্তফা দিতে বলা হয়। এরপর পুলিশ আরও তদন্তের পর পুলিশ জানতে পারে, সত্যিই প্রশ্নফাঁস হয়েছিল। তারপরই এসটিএফ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে জানিয়ে দেয়, এই পরীক্ষায় দুর্নীতি হয়েছে। একপ্রকার বাধ্য হয়ে পরীক্ষা বাতিলের নির্দেশ দেন যোগী।
ওই এক হাজার পদের জন্য লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এতদিন ধরে চাকরির আশায় বসেওছিলেন। হঠাৎ গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাঁরাও বিপাকে।