পথকুকুরদের উপর মানবিক হতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। বদলে জুটল তীব্র ভর্ৎসনা। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা সরাসরি বলে দিলেন, ‘আপনি বাস্তব থেকে বহু দূরে রয়েছেন।’ শুধু তাই নয়, তাঁর দাবি কতটা অসাড়, যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেন তাও।
গত ৭ নভেম্বর রেল স্টেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালত, হাসপাতাল চত্বর থেকে পথকুকুরদের সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিল, নির্বীজকরণের জন্য পথকুকুরদের তুলে নিয়ে যাওয়ার পরে পুরোনো জায়গায় আর তাদের ফেরানো চলবে না। এরপরই একের পর এক মামলা দায়ের হয় শীর্ষ আদালতে। এর মধ্যে শর্মিলা ঠাকুরের একটি মামলাও রয়েছে।
বুধবার বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে পথকুকুর সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। এ দিন শুনানির সময়ে গোল্ডি নামে একটি পথকুকুরের কথা উল্লেখ করেন শর্মিলার আইনজীবী। তা শুনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বলেন, ‘আপনি বাস্তব থেকে বহু দূরে রয়েছেন। হাসপাতালের কুকুরদের মহিমান্বিত করার চেষ্টা করবেন না।’
এখানেই থামেননি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। কড়া সুরে বলেন, ‘রাস্তায় থাকা বেশিরভাগ কুকুরের শরীরেই টিকে (এক ধরনের পোকা) থাকে। এদের থাকতে দিলে হাসপাতাল চত্বরের পরিবেশ মোটেই সুস্থ-স্বাভাবিক থাকবে না।’
পথকুকুরদের নিয়ে কমিটি তৈরির জন্যও সওয়াল করেন শর্মিলার আইনজীবী। আদালতে তিনি বলেন, ‘পথ কুকুরদের নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করতে পারলে ভালো হতো। তাঁরা কোনও প্রতিষ্ঠানে আশ্রিত পথকুকুরদের আচরণ বোঝার চেষ্টা করবে। তা হলে কোনও পথকুকুর আক্রমণাত্মক নাকি সকলের সঙ্গে মিলেমিশে চলে, সেটা সহজেই বোঝা যাবে।’
শুধু তাই নয়, যে সব পথকুকুরের কামড়ানোর ইতিহাস রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করতে রঙিন কলার পরানোর কথাও বলেন অভিনেত্রীর আইনজীবী। আসলে কোন কুকুরের আচরণ কেমন, সেটা কলারের রং দেখে বোঝা যায়। অনেক দেশেই এমন ব্যবস্থা রয়েছে বলেও আদালতে জানান তিনি। তবে শর্মিলার আইনজীবীর এই যুক্তিও খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। কড়া ভাষায় বলেন, ‘ওই দেশগুলির জনসংখ্যা কত বলুন তো? একটু বাস্তবিক হন।’