• মতুয়ারা অবৈধ হলে, প্রধানমন্ত্রীও অবৈধ: অভিষেক
    আজকাল | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: মতুয়ারা অবৈধ হলে প্রধানমন্ত্রীও অবৈধ। শুক্রবার ঠাকুরবাড়িতে বাড়িতে এসে হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে তিনি বলেন, মতুয়াদের আবেগ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।

    শুক্রবার হেলিকপ্টারে নদিয়ার তাহেরপুর থেকে বনগাঁর কিষাণ মান্ডিতে আসেন অভিষেক। এখান থেকে যশোর রোড ধরে ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছন। রাস্তার দু’ধারে বহু তৃণমূলকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য উপস্থিত ছিলেন। ঠাকুরবাড়িতে এসে প্রথমে তিনি হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পুজো দেন। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর। তারপর তিনি গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পুজো দেন। এবং সব শেষে বড়মা বীণাপাণি ঠাকুরের ঘরে গিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান।

    ঠাকুরবাড়িতে পুজো দিয়ে বেরোচ্ছেন অভিষেক ব্যানার্জি। নিজস্ব চিত্র।

    এরপরেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, “মতুয়াদের আবেগ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। মতুয়াদের কাছে পরিষ্কার। প্রধানমন্ত্রী এসে যে কথাগুলি বলে গিয়েছেন একটাও রাখেননি। প্রধানমন্ত্রী রানাঘাট বা বনগাঁ সভা করতে এসে যে কথাগুলো বলে গিয়েছিলেন, রাস্তা সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে এইমস এখনও পুরোপুরি হয়নি।” এরপরেই নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেন, “মতুয়া ভাইদের নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা। তারা যদি অবৈধ হয়, আপনিও অবৈধ। এখন নাগরিকত্ব করতে গেলে পাসপোর্টের কপি, ভিসা ডিটেলস লাগছে। নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দেবেন নয়তো গদি ছাড়তে হবে।”

    ২০২৩ সালে নবজোয়ার কর্মসূচিতে এসে হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে যেতে পারেননি অভিষেক। সে প্রসঙ্গে এদিন তিনি বলেন, “নবজোয়ারে যখন ঠাকুরনগরে এসেছিলাম তখন জোর জবরদস্তি ব্যবস্থা করেছিল আমি যেন ঢুকতে না পারি। যেহেতু আমরা শান্তি-সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি, আমরা কোনও রকম রাজনৈতিক হিংসা, জোর জবরদস্তি, গা-জোয়ারিতে বিশ্বাস করিনা। সেজন্য আমি হরিচাদের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম। এর জবাব উনিই দেবেন।” অভিষেক আরও বলেন, “মানুষ প্রমাণ করে দিয়েছেন ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে সাধারণ মানুষের জন্য অবারিত দ্বার। যে কেউ আসতে পারেন যে কেউ যখন খুশি আসতে পারেন। এটা শ্রদ্ধার জায়গা। মানুষ এসে তাঁর মনের কথা বলবেন, শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন, পুজো দেবেন, এটাই রীতিনীতি।”

    প্রধানমন্ত্রী মতুয়াদের জন্য কী করেছেন তার রিপোর্ট কার্ড প্রকাশের দাবি জানিয়ে অভিষেক বলেন, “আপনি বলবেন সেখানে আপনার যা বক্তব্য। আপনি বলবেন কেন্দ্রীয় সরকার মতুয়া ভাইদের জন্য কী করেছে, এই সাব ডিভিশনের মানুষের জন্য, এই জেলার মানুষের জন্য। আপনি রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুন, আমি তো রিপোর্ট কার্ড নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি। আপনাদের রিপোর্ট কার্ড কোথায়?”

    এদিন সকালে হঠাৎ ঠাকুরবাড়িতে প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা এসে উপস্থিত হন। আচমকা উত্তেজনা তৈরি হয়। তাঁরা অবশ্য পরে শান্তনু ঠাকুরের বাড়ির সামনেই পাহারায় ছিলেন। ঠাকুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতেই ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের’ শান্তনু ঠাকুরের অনুগামীরা অভিষেকের উদ্দেশ্যে স্লোগান তোলেন। অভিষেক চলে যাওযার পরে শান্তনুরা কামনা সাগরের জল নিয়ে মন্দির ধুইয়ে দেন।

    এ বিষয়ে সান্তনু ঠাকুর বলেন, “রিপোর্ট কার্ড আমরা যথাসময়ে প্রকাশ করব। মতুয়াদের প্রধান দাবি ছিল নাগরিকত্ব, প্রধানমন্ত্রী সেই কথা রেখেছেন। আজকে অভিষেকের ঠাকুরনগর সফর পুরো ফ্লপ হয়েছে। ঠাকুরবাড়ি এসে মমতা ঠাকুরের বিকৃত বক্তব্য নিয়ে ক্ষমা চাইনি তাই আমরা মন্দির ধুইয়েছি।”। মন্দির ধোয়ার বিষয়ে তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুর বলেন, “শান্তনু ঠাকুর আগের বার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসায় যে পাপ করেছিলেন এ বার তা ধুয়ে পূণ্য করলেন। সফর শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে তিনি ভালভাবে এসেছেন পুজো দিয়েছেন চলে গিয়েছেন।”

    সেদিন অভিষেকের সফর উপলক্ষে ঠাকুরবাড়িতে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস, প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক-সহ তৃণমূলের একাধিক রাজ্য নেতৃত্ব।
  • Link to this news (আজকাল)