দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর অভিযানের পর রাদ্যে নজিরবিহীন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাদবপুর পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করেন আর সেখানেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, তাঁকে এবং তাঁর সরকারকে যদি বারবার হেনস্থা করার চেষ্টা করা হয়, তবে তিনি কয়লা কেলেঙ্কারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সব দুর্নীতি ফাঁস করে দেবেন।
কলকাতায় ইডি অভিযানের প্রতিবাদে আয়োজিত একটি বিশাল সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় মমতা বলেন, 'আমার কাছে পেন ড্রাইভ আছে। আমি যে পদে আছি, সেই পদের সম্মানে এত দিন চুপ করে ছিলাম। আমাকে খুব বেশি চাপে ফেলবেন না। আমি সব ফাঁস করে দেব। পুরো দেশ স্তম্ভিত হয়ে যাবে।'
প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে তদন্তাধীন একটি অবৈধ কয়লা খনি মামলার সংযোগে বৃহস্পতিবার আই-প্যাক-এর অফিস এবং এর প্রধান প্রতীক জৈনের অফিসে এই অভিযান চালানো হয়। পরিস্থিতি তখন আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিস ও তাঁর সহযোগীদের নিয়ে তল্লাশিস্থলে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে ফাইল ও পেন ড্রাইভ নিয়ে বেরিয়ে আসেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ওই ফাইলগুলোতে অত্যন্ত সংবেদনশীল নির্বাচনী রণকৌশল ছিল। ইডির তদন্তে হস্তক্ষেপের সমালোচনা করা হলে তিনি পাল্টা বলেন যে, অভিযানের সময় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের মুখোমুখি হয়ে তিনি কোনও ভুল করেননি। 'আমি প্রতীক কে ফোন করেছিলাম কিন্তু দেখলাম ফোন ধরছেনা। আমি যা করেছি কালকে কোন অন্যায় করিনি। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান হিসেবে করেছি। তুমি আমাকে খুন করতে এলে আমার আত্মরক্ষার অধিকার আছে। তুমি আমার অফিস থেকে সমস্ত তথ্য চুরি করছিল। আমি যাওয়ার আগেই সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চুরি করেছে। ভিতুর ডিম। আজ অভিষেক গিয়েছে মিটিং করতে তাহেরপুরেআর ওখানে প্যারা মিলিটারি ফোর্স দিয়ে গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে'।
অত্যন্ত বিরক্ত এবং রাগান্বিত হয়ে মমতা বলেন, বিজেপি আগে খেতে পেত না একটা বিড়িতে তিনবার টান দিত, আজ কী অহংকার! দাঙ্গাকারীরা আজকে ক্ষমতায়, ভুলে গেছেন গোধরা, উন্নও, হাথরাস, পহেলগাঁও? বিএসএফ কার আন্ডারে? বর্ডার কে দেখে?
মমতা অভিযোগ করেন যে, কয়লা কেলেঙ্কারির সমস্ত লভ্যাংশ শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে গিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, এই অর্থ বাংলার বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার—যাকে তিনি 'ডাকাত' বলে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তিনি 'গদ্দার' এবং শাহের 'পালিত পুত্র (Godson)' বলে কটাক্ষ করেছেন। এই শুভেন্দুর মাধ্যমেই অমিত শাহর কাছে দুর্নীতির টাকা পাচার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, পদের মর্যাদার কারণেই তিনি এতদিন নীরব ছিলেন। এছাড়া মমতা বিএসএফ (BSF) এবং সিআইএসএফ (CISF) বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন এবং অভিযোগ করেন যে, তারা অবৈধ কয়লা পাচার রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন হাজরার সভা থেকে যে, 'বিজেপির জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারীকে টাকা দেয় শুভেন্দু অধিকারী অমিত শাহ কে টাকা পাঠায়। আমি চেয়ারে আছি বলে ওই পেনড্রাইভ গুলো বাইরে যায় না। বেশি রাগালে কিন্তু ফাঁস করে দেব সব। মনে রাখবেন লক্ষণের একটা সীমারেখা আছে। লক্ষণের গন্ডি পেরিয়ে গেলে কিন্তু আর সামলে রাখতে পারবেন না। আমি অনেক কিছু জানি, বলি না শুধু দেশের স্বার্থে। আমি মুখ খুললে, কাল সারা পৃথিবীতে হইচই হবে'।
অবশেষে তিনি আবারও সতর্ক করেন যে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো যদি অন্যায্য চাপ প্রয়োগ করে, তবে তিনি সমস্ত কিছু প্রকাশ্যে আনতে প্রস্তুত এবং তাঁর দাবির সপক্ষে প্রয়োজনীয় পেন ড্রাইভ তাঁর কাছে রয়েছে।