‘বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্ন’, পথকুকুর মামলায় শর্মিলা ঠাকুরকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের
প্রতিদিন | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বুধবার পথকুকুর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আগের অবস্থানই বহাল রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবারও ছিল শুনানি। আর শুনানি চলাকালীন অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরকে ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। তাঁর তরফে যিনি আইনজীবী ছিলেন, তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শর্মিলার যে প্রস্তাব তা বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্ন।
এদিন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ”আপনি বাস্তব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। হাসপাতাল চত্বরে থাকা কুকুরদের নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না।” উল্লেখ্য, শর্মিলার আইনজীবী ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ কুকুরের উদাহরণ দিতে গিয়ে এইমসে বহু বছর ধরে বসবাস করা গোল্ডি নামের এক কুকুরের উল্লেখ করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, যথাযথ কমিটি তৈরি করে কোনও কুকুর ‘আক্রমণাত্মক’ কিনা তা যাচাই করা দরকার। তাঁর কথায়, ”আমাদের পরামর্শ, বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করে কুকুরদের আচরণ লক্ষ করা হোক। তাহলেই কারা সুস্থ কারা আক্রমণাত্মক তা চিহ্নিত করা যাবে। গোল্ডি নামের একটি কুকুরের কথা উল্লেখ করতে পারি, যে বহু বছর ধরে এইমস চত্বরে থাকে।”
এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের তরফে বলা হয়, ”ওকে কি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নাকি? রাস্তার প্রতিটি কুকুরের শরীরেই পোকা থাকে। আর হাসপাতালে পোকাযুক্ত কোনও কুকুরের উপস্থিতি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। আপনি কি বুঝতে পারছেন?”
এদিকে এর আগে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, কুকুরের মন বোঝা মানুষের পক্ষে কখনই সম্ভব নয়, কখন প্রাণীটি কামড়াবে কিংবা কামড়াবে না! অতএব, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো। শুধু কামড়ানো নয়, পথকুকুরের কারণে দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে। শীর্ষ আদালত আরও আগে জানিয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, খেলার মাঠের মতো জায়গাগুলি একেবারে পথকুকুরমুক্ত করতে হবে সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে যে এলাকা থেকে পথকুকুরদের শেল্টারে পাঠানো হবে, ওই এলাকায় আর ফেরানো যাবে না। যা নিয়ে গোটা দেশেই সরব হয়েছেন পশুপ্রেমীরা।