ডোমজুড়ে SIR শুনানি পর্বের লাইনে দাঁড়িয়ে ছেলের সামনে মৃত্যু বাবার, খোঁজ নিলেন অভিষেক
প্রতিদিন | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
অরিজিৎ গুপ্ত, হাওড়া: ফের এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু রাজ্যে। শুনানি পর্বের লাইনে দাঁড়িয়ে ছেলের সামনে মৃত্যু বৃদ্ধের। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে ডোমজুড় বিধানসভার বালি জগাছা ব্লক অফিসে। এই ঘটনার পরই বৃদ্ধের বাড়িতে পৌঁছন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। পুরো ঘটনার খোঁজ নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
মৃতের নাম মদন ঘোষ। বয়স ৬৫ বছর। তিনি লিলুয়া চকপাড়ার বাসিন্দা। মদনবাবু ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের ২৩৫ নম্বর পার্টের ভোটার ছিলেন। বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে বালি জগাছা ব্লকের কোনা বিডিও অফিসে এসআইআরের শুনানির জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলেও। সেখানেই আচমকা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মদনবাবু। মাথা ঘুরে পড়ে যান বৃদ্ধ। প্রথমে তাঁকে কোনা হাসপাতালে পরে, হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা মদনবাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বৃদ্ধ। শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর ছোট ছেলে দীপঙ্কর ঘোষও। দুপুর আড়াইটে নাগাদ মদনবাবুর মৃত্যু হয়। বাবাকে অকালে হারিয়ে দীপঙ্কর বলেন, “২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবার নাম রয়েছে। বাবা প্রতিবারই ভোট দিয়েছেন। খসড়া ভোটার তালিকাতেও বাবার নাম রয়েছে। তা সত্ত্বেও বাবাকে ডেকে পাঠানো হল। শুনানির ডাক পেয়ে দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়েই বাবা মারা গেলেন।”
চকপাড়ার বাড়িতে মদনবাবুর দেহ যাওয়ার পর শোকে ভেঙে পড়েন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। মদনবাবুর পুত্রবধূ প্রিয়াঙ্কা ঘোষ বলেন, “এসআইআর শুনানির আতঙ্কের জন্যই বাবার মৃত্যু হল। শুনানির ডাক পাওয়ার পর এক সপ্তাহ ধরে ভয় পাচ্ছিলেন। বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার আতঙ্কে ভুগছিলেন। সব কাগজ ঠিক থাকা সত্ত্বেও কমিশনের জন্যই বাবার আজ বাবার মৃত্যু হল।”
মদনবাবুর মৃত্যুর খবর পেয়েই তাঁর লিলুয়ার চকপাড়ার বাড়িতে যান ডোমজুড় কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তাপস মাইতি ও ডোমজুড়ের বিধায়ক কল্যান ঘোষ। তাপস মাইতি এদিন বলেন, “নির্বাচন কমিশনের জন্য বাংলার বুকে মৃত্যু মিছিল চলছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় মদনবাবুর নাম ছিল। তা সত্ত্বেও তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়। আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে মদনবাবুর পরিবারের পাশে আছি।” ডোমজুড়ের তৃণমূল বিধায়ক কল্যান ঘোষ বলেন, “বিজেপি নির্বাচন কমিশন, ইডি ও সিবিআইকে কাজে লাগিয়ে ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে চাইছে।” বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে তাঁর বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়।