• লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির নামে সাধারণের নাম বাদ! বিস্ফোরক অভিযোগে ইস্তফাপত্র AERO-র
    প্রতিদিন | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • মণিরুল ইসলাম, উলুবেড়িয়া: এসআইআরে যেসব কারণে লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির কথা বলা হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করতে চাইলেন বাগনানের AERO (ইলেকশন রেজিস্ট্রেশন অফিসার)। তাঁর অভিযোগ, এই লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি অর্থহীন এবং দেশের একটা বড় অংশ, প্রান্তিক শ্রেণির মানুষকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত। দেশের মানুষের সঙ্গে এবং দেশের সঙ্গে বেইমানি করতে পারবেন না তিনি। তাই এসআইআরের কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়ে বাগনান বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও মৌসম সরকার পদত্যাগপত্র পাঠালেন সংশ্লিষ্ট ইআরও অচিন্ত্যকুমার মণ্ডলকে। গত ৮ জানুয়ারি, বুধবার তিনি এই চিঠি দিয়েছেন। এই ব্যাপারে ইআরও অচিন্ত্যকুমার মণ্ডল চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করেছেন এবং তিনি তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

    মৌসম সরকার বাগনান দু’নম্বর ব্লকের ব্লক ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অফিসার। আগামী ১৪ জানুয়ারি বাগনান ২ নম্বর ব্লকে শুরু হচ্ছে লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির শুনানি। সংখ্যাটা ওই ব্লকে প্রায় ২৪ হাজার। তার আগেই এইআরও-র কাছ থেকে অব্যাহতি চাইলেন মৌসম বাবু। কারণ হিসেবে তিনি চিঠিতে জানিয়েছেন, লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির ক্ষেত্রে যে নামের বানান ভুলের কথা বলা হচ্ছে, সেটা যেটা ২০০২ ছিল, পরে সাধারণ মানুষ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই ৮ নম্বর ফর্ম ফিলআপ করে সংশোধন করেছে। সেই কারণেই নামের বানানে গরমিল পাওয়া যাচ্ছে। বয়স ভুলের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার।

    এ বিষয়ে মৌসমবাবু বলেন, ”দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে আমি মনে করি, এ ধরনের লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির কোনও অর্থ নেই। বড় অংশের মানুষের এবং প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের ভোট বাতিল করার উদ্দেশে এটা করা হয়েছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির সমাধানের জন্য ক্ষেত্রে যে বারোটা নথি চাওয়া হয়েছে, এই অংশের মানুষের কাছে সেগুলি নেই। তাঁদের কাছে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং রেশন কার্ড ছিল, সেগুলি নেওয়া হচ্ছে না। এতে একটা বিশেষ শ্রেণির মানুষ এবং প্রান্তিক শ্রেণির অনেক মানুষ বিপদে পড়বেন।”

    এখানেই বিবেক দংশনে ভুগছেন এইআরও মৌসম সরকার। তিনি বলেন, ”আমি আমার এই এইআরও পদের দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। আমি এই পদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছি। কারণ, আমি আমার দেশের সঙ্গে এবং দেশের মানুষের সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না।” এনিয়ে হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ্রিয়া কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)