• ১৬ বছর পর কার্শিয়ঙে দেখা মিলল বিরল প্রজাতির হরিণের
    আজ তক | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • Melanistic Deer: কার্শিয়াংয়ের জঙ্গল নিয়ে যেন একের পর এক চমক! কিছুদিন আগেই ডাউহিল-বাগোরা এলাকায় কালো চিতাবাঘ দেখা গিয়েছিল। এ বার তার সঙ্গে যোগ হল আর-এক বিরল প্রাণীর হদিশ, কালো হরিণ। বৃহস্পতিবার সকালে ডাউহিলের পাইন-বনে হেঁটে বেড়াতে দেখা গেল ওই মেলানিস্টিক বার্কিং ডিয়ারকে। ২০১০ সালে সিঞ্চল বনের ভিতর শেষ দেখা মিলেছিল এমন হরিণের। তার পর দীর্ঘ ১৬ বছর একবারের জন্যও দেখা মেলেনি ওই হরিণের।

    এদিন সকালে বন দফতরের আধিকারিক দেবেশ পান্ডে হঠাৎই চোখে পড়েন সেই ‘কালো হরিণ’। সঙ্গে সঙ্গেই ক্যামেরাবন্দি করেন সেই বিরল দৃশ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কালো চিতাবাঘ যেমন জিনগত পরিবর্তনের ফলে কালো বর্ণ ধারণ করে, ঠিক তেমনই হরিণের ক্ষেত্রেও এই রঙের তারতম্য ঘটে থাকে। ফলে এই কালো রং আসলে প্রকৃতির এক বিরল উপহার।

    ডিএফও দেবেশ পান্ডে জানালেন, “এটা খুবই rare ঘটনা। জিনগত কারণেই এমন কালো রং। সকালে ফটো তুলতে গিয়ে ডাউহিলের জঙ্গলে ওকে দেখি। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর বুঝলাম, ও ডাউহিল–বাগোরা belt–এই ঘোরাফেরা করছে।”

    কার্শিয়াং সংরক্ষিত বন না হলেও বিগত কয়েক বছরে বনকর্মীদের নিরন্তর প্রচেষ্টায় এই এলাকা এখন বন্যপ্রাণীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। বুনো শুয়োর, হরিণ, চিতাবাঘ থেকে হাতি, বিভিন্ন প্রাণীর অবাধ বিচরণ এখন নিয়মিত দৃশ্য কার্শিয়াং বনাঞ্চলে।

    গত দু’তিন বছর ধরে যে কালো চিতাবাঘটি ঘুরে বেড়াচ্ছে কার্শিয়াংয়ে, বনকর্মীরা মনে করছেন, এই বনেই প্রচুর খাবার পাওয়ার কারণে সে অন্যত্র যেতেই চাইছে না। একই কারণে হরিণের দলও এখানে ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। খাবারের অভাব নেই বলেই বন্যপ্রাণীদের বসতি জমে উঠেছে।

    তবু কালো হরিণের উপস্থিতি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সিঙ্গালিলা, সিঞ্চল বা মহানন্দার মতো বিশাল জীববৈচিত্র্যময় জঙ্গল থাকার পরেও কার্শিয়াংয়ে এমন বিরল প্রাণীর দেখা পাওয়া যে সত্যিই সৌভাগ্যের, তা মানছেন বন দফতরের আধিকারিকরাও।

    খবর প্রকাশ্যে আসতেই বন্যপ্রাণীর শান্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই দুপুর থেকেই ওই এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে কার্শিয়াং বন দফতর। যাতে মানুষ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড়ের জন্য কালো হরিণের চলাফেরায় বিঘ্ন না ঘটে। পাশাপাশি বাগোরা রেঞ্জেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

     
  • Link to this news (আজ তক)