এনসিপির দুই শিবিরের কর্মীরা এক হতে চান: অজিত পাওয়ার
বর্তমান | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
মুম্বই: পুরসভা নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী একের পর এক ঘটনা নিয়ে সরগরম মহারাষ্ট্রের রাজনীতি। এরই মাঝে শুক্রবার চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ার। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এবার এনসিপির দুই শিবিরের কর্মীরা এক হতে চান। ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে চান। পাওয়ার পরিবারের যাবতীয় ঝামেলা মিটে গিয়েছে।’ বছর দুয়েক আগে কাকা-ভাইপোর সম্পর্কে চিড় ধরে। এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা তথা কাকা শারদ পাওয়ারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন ভাইপো অজিত। পরের দিকে এনডিএ শিবিরে নাম লিখিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। এমনকি দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নেন অজিত পাওয়ার। আর নতুন নাম ও প্রতীক সম্বল করে পথ চলা শুরু করে শারদ গোষ্ঠীর এনসিপি। এই পরিস্থিতিতে ফের এক হওয়ার বার্তা সামনে আসতেই উচ্ছ্বসিত দলীয়-কর্মীরা। এই বিষয়ে সিলমোহর দিয়েছেন শারদ পাওয়ারের মেয়ে সুপ্রিয়া সুলেও।
এদিন বর্তমান রাজনীতির নানা সমীকরণ নিয়েও কথা বলেন অজিত পাওয়ার। তাঁর কথায়, ‘রাজনীতিতে ক্রমে শেষ হয়ে যাচ্ছে দলীয় আদর্শ, দায়বদ্ধতা ও নীতি। আজকাল অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই তাদের মতাদর্শ বিসর্জন দিচ্ছে। শুধুমাত্র নিজেদের গদি ধরে রাখতে নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে। টাকা, ক্ষমতা আর ভয়। এই তিনের জোরে এক দল অন্যদলের নেতা টানতে ব্যস্ত।’ বিধানসভা ভোটের পর মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার নিয়ে একনাথ সিন্ধে ও দেবেন্দ্র ফড়নবিশের মধ্যে টানাপোড়েনের সাক্ষী ছিল মহারাষ্ট্র। পরের দিকে পুরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একের পর এক ঘটনা সামনে আসে। পুর নির্বাচনের আগে শরিক দল শিবসেনা (সিন্ধে) বিজেপির বিরুদ্ধে অপারেশন লোটাস চালানোর অভিযোগ তুলেছিল। ভোট মেটার পর আরও বড় চমকের সাক্ষী হয়েছে মারাঠা রাজনীতি। আম্বেরনাথ পুরসভায় একনাথ সিন্ধের শিবসেনাকে কোণঠাসা করতে চিরশত্রু কংগ্রেসের হাত ধরেছে বিজেপি। আকোলা জেলার একটি পুরবোর্ড গঠনে গেরুয়া শিবির জোট বাঁধে মিমের সঙ্গেও। এই আবহে অজিত পাওয়ারের মন্তব্য ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে।