• পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পক্ষে নয় বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব
    বর্তমান | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অতি সক্রিয়তা দেখাতে গিয়ে রাজনৈতিক অ্যাডভান্টেজ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই উঠে এসেছে ভোটের প্রাক্কালে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেটা বুঝতে পারছে। আর তাই মুখে সংবিধান সংকটে বলে শোরগোল তুললেও ৩৫৬ ধারা নিয়ে চিন্তাই করেছে না মোদি সরকার। কারণ বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিশ্চিত যে, ওরকম কোনও সামান্য পদক্ষেপ নেওয়া হলে, তা বিজেপির পক্ষে আত্মঘাতী হবে। বল চলে যাবে মমতা বন্দ্যোপাধায়ের কোর্টে। 

    সাংবিধানিক সংকট। আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অসাংবিধানিক কাজ করছে রাজ্য সরকার। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় নেতারাও ইডি অভিযান নিয়ে বিগত ৪৮ ঘণ্টায় প্রবল আক্রমণ করলেও আদতে বহুচর্চিত ৩৫৫ অথবা ৩৫৬ ধারা পশ্চিমবঙ্গে প্রয়োগ করার পথে হাঁটছে না মোদি সরকার। বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে, রাষ্ট্রপতি শাসনের মতো কোনও হঠকারী পদক্ষেপ নেওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই মোদি সরকারের। শুক্রবার দিল্লিতে  বিজেপির সদর দপ্তরে দলের মুখপাত্র রবিশংকর প্রসাদ বলেছেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম এরকম কোনও ঘটনা ঘটল। একজন মুখ্যমন্ত্রী একটি বেসরকারি সংস্থায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযান প্রতিরোধ করতে চলে গিয়েছেন। এটা রীতিমতো আইনি অপরাধ। আদালত বিচার করবে। আদালতে আবেদন করেছে ইডি। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, বিষয়টি যদি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে কি কেন্দ্র বাংলায় ৩৫৬ ধারা জারি করে রাষ্ট্রপতি শাসনের পথ নেবে? রবিশংকর প্রসাদ এই প্রশ্নের উত্তরে সতর্ক হয়ে বলেন, আর মাত্র কয়েকমাসের মধ্যে এমনিতেই তো বঙ্গবাসী তৃণমূল সরকারের পতন ঘটাবে। ভোটের লড়াইতেই যে বিজেপির এই আক্রমণ সীমাবদ্ধ থাকবে, সেটা‌ই বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মুখপাত্র। তিনি বলেছেন, আগামী ভোটে তূণমূল আর ফিরছে না। প্রশ্ন উঠছে বঙ্গ বিজেপি যেখানে বারংবার রাষ্ট্রপতি শাসনের ভয় দেখায় সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেই দাবিতে জল ঢেলে দিচ্ছে কেন? আসলে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে জ্বলন্ত ইস্যু তুলে দিতে চাইছে না। সুতরাং সেই পথে গেলে আদতে তূণমূলের রাজনৈতিক সুবিধাই বেশি হবে। এই কারণেই প্রবল চাপ দেওয়া হবে কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে। কিন্তু সীমাবদ্ধ থাকবে সক্রিয়তা। 
  • Link to this news (বর্তমান)