• শাহের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ, মহুয়াদের চ্যাংদোলা করেই ভ্যানে তুলল দিল্লি পুলিশ
    বর্তমান | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শুক্রবার সকালে তুলকালাম কাণ্ড। বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, টানাহ্যাঁচড়া, থানায় আটক। কয়েক ঘণ্টা ধুন্ধুমার কাণ্ড দেখল দিল্লি। প্রতিবাদী তৃণমূল সাংসদদের  চ্যাংদোলা করে তোলা হল পুলিশের গাড়িতে। ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হল ‘কর্তব্য ভবনে’র গেটের বাইরে। কারণ না দর্শিয়েই চার ঘণ্টা থানায় আটকে রাখা হল আইনপ্রণেতাদের। অমিত শাহর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পুরো ঘটনা রেকর্ড করা হল ভিডিও ক্যামেরায়। ফুটেজ পাঠানো হল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। যদিও তাতেও দমলেন না তৃণমূলের আট সাংসদ। জানিয়ে দিলেন, ‘আটকে রাখো কিন্তু দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’ 

    নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হেনস্তার অভিযোগে এক্স হ্যান্ডলে ফুঁসে উঠলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর টুইট, সরকারি পোশাকে ঔদ্ধত্য। এটা গণতান্ত্রিক দেশ। বিজেপির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। বললেন, অত্যন্ত লজ্জাজনক আচরণ করেছে দিল্লি পুলিস। তীব্র নিন্দা করছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের রাস্তায় টেনে-হিঁচড়ে নেওয়া আইন প্রয়োগ নয়। ক্ষমতার মোড়কে অহংকার। বিজেপি নেতারা যখন প্রতিবাদ করেন, তখন তাঁরা লাল গালিচা আশা করেন। আর বিরোধী দলের সাংসদরা যখন সরব হন, তখন টেনেহিঁচড়ে আটক করা হয়। অপমান করা হয়। এই দ্বিচারিতাই বিজেপির চরিত্র। তাই স্পষ্ট করে বলছি, সম্মান দিন। সম্মান পাবেন। আমরা অধিকারবলে নাগরিক, কারও ক্ষমতার দয়ায় নয়। নেত্রীর এই টুইট আটকে থাকা আট সাংসদকে দিল বাড়তি অক্সিজেন। তারাও পুলিসকে জানিয়ে দিল, আটকে রেখেও কণ্ঠরোধ করতে পারবেন না। প্রতিবাদে জ্বলে ওঠা মমতার মন্তব্য,বৃহস্পতিবার কলকাতায় ইডি অভিযানের প্রতিবাদে শুক্রবার দিল্লির হাড়কাঁপানো ঠান্ডাতেও উত্তপ্ত হল রাজধানী। সকাল ৮-৪০ নাগাদ তৃণমূল সাংসদরা পৌঁছে যান জনপথে নতুন কেন্দ্রীয় সচিবালয় ‘কর্তব্য ভবনে’র সামনে। যেখানে রয়েছে অমিত শাহর অফিস। ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, প্রতিমা মণ্ডল, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, বাপি হালদার, শর্মিলা সরকার এবং সাকেত গোখলে। হাতে পোস্টারে লেখা ‘যতই করো হামলা/আবার জিতবে বাংলা।‘ ‘মোদি-শাহের নোংরা কৌশল প্রত্যাখান করেছে বাংলা।’ কর্তব্য ভবনের এক নম্বর গেট দিয়ে কিছুটা ভিতরে ঢুকেও যান তাঁরা। হাতে পোস্টার, স্লোগান শুনে আটকে দিল পাহারারত কেন্দ্রীয় বাহিনী। ডাকা হয় দিল্লি পুলিসকে। ডেরেক আর মহুয়াকে টেনে-হিঁচড়ে আনা হল ভ্যানের সামনে। চ্যাংদোলা করে তোলা হল পুলিশের গাড়িতে। ধাক্কাধাক্কিতে বাঁ পায়ে চোট পেয়ে মাটিতে বসে পড়লেন বাপি হালদার। শর্মিলা সরকার আর শতাব্দী রায়কে ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যাওয়া হল। মহিলা পুলিস তাঁদের তুলে দিল ভ্যানে। ডেরেক বললেন, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পুলিসের এই আচরণ অগণতান্ত্রিক। ভোট চোরই নয়। বিজেপি ডেটা চোর। মহুয়া মৈত্রর তোপ, আমাদের নেত্রী বাঘের বাচ্চা। বিজেপি তাই ভয় পেয়েছে। ইডি দেখিয়ে দিদিকে দমানো যাবে না। সব বিজেপি-বিরোধীই দিদিকে অনুসরণ করুক। কীর্তি আজাদের প্রশ্ন, মোদি-শাহ ইতনা ডর কিঁউ? আও পলিটিক্যাল  মুকাবিলা করে। 
  • Link to this news (বর্তমান)