• সাগরমেলা শুরুর আগেই আগুন, পুড়ে ছাই একাধিক অস্থায়ী ছাউনি
    বর্তমান | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মেলা শুরুর একদিন আগে আগুনে পুড়ে ছাই  হয়ে গেল গঙ্গাসাগরের একাধিক অস্থায়ী ছাউনি। কপিলমুনি মন্দির থেকে সি বিচে যাওয়ার ২ নম্বর রাস্তার বাম দিকে সংবাদমাধ্যম, পুলিশকর্মীদের থাকার জন্য ছাউনির একাংশ, তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের তাঁবু ও বজরং পরিষদের হোগলার ছাউনি একেবারে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। দমকলের দু’টি ইঞ্জিন এবং পাঁচটি ফায়ার ফাইটিং বাইক আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগায়। কিন্তু ততক্ষণে দাউদাউ করে জ্বলছে হোগলা পাতার অস্থায়ী তাঁবুগুলি। মেলা শুরুর আগে এই অগ্নিকাণ্ডে স্বাভাবিকভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা মেলা চত্বরে। তবে নতুন করে ওই জায়গায় অস্থায়ী তাঁবু তৈরি করতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন কর্মীরা। ১২ জানুয়ারির আগে যাতে সেই কাজ শেষ হয়, তার জন্য যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলছে যাবতীয় প্রস্তুতি। 

    জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর ৫টা নাগাদ প্রথমে একটি অস্থায়ী ছাউনিতে আগুন লাগে। পরক্ষণে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের হোগলার ঘরগুলিতে। আধ ঘণ্টার মধ্যে আগুনের গ্রাসে চলে যায় ১৫ থেকে ২০টি তাঁবু। যেখানে আগুন লাগে, তার ঠিক পাশের তাঁবুগুলিতে মহিলা পুলিশকর্মীরা ঘুমিয়ে ছিলেন। চিৎকার শুনে তড়িঘড়ি তাঁরা হাতের সামনে যা জিনিসপত্র ছিল, সেসব নিয়ে বেরিয়ে আসেন। পুলিশের থাকার জন্য যে জায়গাগুলি করা হয়েছিল, সেখানে তাদের নানা সামগ্রী ছিল। ওয়াকিটকি সহ বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা অনেক দূর থেকে দেখা যাচ্ছিল। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। ছুটে আসেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা। 

    তবে এই অগ্নিকাণ্ড একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রতি বছর এই হোগলা পাতার ঘর তৈরি করার আগে সেগুলি বিশেষ রাসায়নিকে চুবিয়ে শুকিয়ে নেওয়া হয়। সহজে যাতে আগুন না ধরে, তার জন্যই এই পদক্ষেপ। কিন্তু এদিন যেভাবে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠল, তাতে প্রশ্ন উঠেছে, এবার হোগলা পাতা কি ওই বিশেষ রাসায়নিকে ভেজানো হয়নি? এদিকে, আগুন নিভে যাওয়ার পর ওই চত্বর ঘিরে দেওয়া হয়। কাউকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

    মেলায় এখনও ভিড় শুরু হয়নি। তাই এদিন আগুন লাগলেও বড় রকমের বিপদ এড়ানো গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিগত বহু বছর এরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি মেলায়। কিন্তু এবার ঠিক মেলার প্রাক্কালে এই অগ্নিকাণ্ড অনেকের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বলেন, ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ওই চত্বরে একটি হাইমাস্ট আলোর স্তম্ভেব বিদ্যুৎ সংযোগে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে মেলার সময় আগুন লাগলে বড় রকমের বিপদ হতে পারত। প্রশাসনের তৎপরতায় আগুন বেশি ছড়িয়ে পড়েনি।’ এদিকে, শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় কলকাতার সিপি মনোজ ভার্মা গঙ্গাসাগরে আগত সমস্ত পুণ্যার্থীকে স্বাগত জানিয়েছেন। সবাইকে তিনি পুলিশের নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন রাখার পাশাপাশি যে কোনও সমস্যায় পুলিশের সাহায্য নিতে বলেছেন। 
  • Link to this news (বর্তমান)