• দক্ষিণ দমদমের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়, ২ তৃণমূল কাউন্সিলারের পদত্যাগপত্র গৃহীত
    বর্তমান | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দক্ষিণ দমদমে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়! গত ৩১ ডিসেম্বর দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ফুচু এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার গোপা পান্ডে ইস্তফা দিতে চেয়ে বারাকপুরের মহকুমাশাসক ও পুরসভার চেয়ারম্যানকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। সেই চিঠিতে তাঁরা শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করছেন বলে জানান। তাঁদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দলীয় নির্দেশ ও পুরসভার আইন মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। 

    বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ, প্রায় দু’বছর আগে এই পুরসভার ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অরূপ হাজরা পদত্যাগ করতে চেয়ে একইভাবে মহকুমা শাসক ও চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছিলেন। সেই পদত্যাগ আজও গৃহীত হয়নি। তাই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব দমদমের দুই কাউন্সিলারের ‘ব্ল্যাকমেলের রাজনীতি’ কড়া হাতে দমন করতে চাইছে। সেই কারণেই দ্রুত এই পদত্যাগপত্র গৃহীত হল। 

    দক্ষিণ দমদম পুরসভা এলাকায় মোট ৩৫টি ওয়ার্ড। এর মধ্যে দমদম বিধানসভা এলাকার মধ্যে পড়ে ১৭টি। বিধাননগর বিধানসভার মধ্যে ১০টি এবং রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভার মধ্যে ৮টি ওয়ার্ড রয়েছে। পদত্যাগী দুই কাউন্সিলারের ওয়ার্ড দমদম বিধানসভা এলাকার মধ্যে। গত ৩১ ডিসেম্বর পুরসভায় বোর্ড মিটিং ছিল। ওই দিন পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পুরসভায় যান দু’জন। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁরা বোর্ড মিটিংয়ের আগে সিআইসি (জল) মুনমুন চট্টোপাধ্যায়ের চেম্বারে যান। দমদম বিধানসভা এলাকার সিংহভাগ কাউন্সিলার সেখানে ছিলেন। সেখানে পদত্যাগী দুই কাউন্সিলার বলেন, ‘দমদম বিধানসভাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমরা প্রত্যেক ভোটে লিড দিয়েছি। অথচ যেসব বিধানসভা এলাকার ওয়ার্ড থেকে দল হেরেছে, সেখান থেকেই চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সহ সমস্ত পদ দেওয়া হয়েছে। তাই  দমদম বিধানসভা এলাকার বাকি কাউন্সিলারদেরও পদত্যাগ করা উচিত।’ এনিয়ে প্রতিবাদ হওয়া উচিত বলে অনেক কাউন্সিলার জানালেও কেউই পদত্যাগে রাজি হননি। এই খবরও দলের কাছে পৌঁছয়। শুধু তাই নয়, মাসখানেক আগে দেবাশিসবাবু কাউন্সিলার পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে দলের দমদম-বারাকপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পার্থ ভৌমিক ও মন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। সেবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, সত্যিই পদত্যাগ করতে চাইলে দেবাশিসবাবু কেন মহকুমাশাসক ও পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠালেন না? এসবের মধ্যে দমদমের রাজনীতিতে দেবাশিসবাবুর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত এবং কিছুটা ‘কোণঠাসা’ হয়ে পড়া প্রবীর পালকে রাজ্য নেতৃত্ব গুরুত্ব দিতে শুরু করে। তাঁকে দমদম, উত্তর দমদম ও রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা এলাকার কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তৃণমূলের একাংশের দাবি, তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে দেবাশিসবাবু তাঁর অনুগামী কাউন্সিলার গোপা পান্ডেকে নিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। 

    তৃণমূলের সূত্রে খবর, পদের জন্য দলকে ব্ল্যাকমেল, বহিষ্কৃত থাকা অবস্থায় ওয়ার্ডে গণভোট করে তৃণমূলে যোগ দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া, পরপর দু’বার দলে যোগদানের ‘নাটক’ সহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে দল এবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চেয়ারম্যান কস্তুরী চৌধুরী বলেন, ‘ওঁদের সুস্থতা কামনা করি। পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। আইন মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)