• আধার কার্ডই সূত্র, বিহারের বাসিন্দাকে ক্যানিং থেকে গ্রেপ্তার করল লালবাজার
    বর্তমান | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আধার কার্ডের সূত্র ধরে বেহালার চুরির কিনারা করলেন লালবাজারের অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াডের গোয়েন্দারা। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিহারের বাঁকার বাসিন্দাকে ক্যানিংয়ের জীবনতলার ভাড়া বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার। ধৃতের নাম সেকেন্দার যাদব (৩৫)। চোরাই মাল কেনার অভিযোগে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কলকাতা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার এই খবর জানিয়েছেন।

    প্রাথমিক তদন্তে লালবাজার জানতে পেরেছে, আদতে বিহারের বাঁকা জেলার বাসিন্দা হলেও বেশ কয়েক বছর ধরেই সেকেন্দার বাঙালি মেয়েকে বিয়ে করে ক্যানিংয়ের জীবনতলায় ঘরভাড়া নিয়ে থাকছিল। সম্প্রতি অস্থায়ী রাঁধুনি হিসেবে সে বেহালার একটি বাড়িতে কাজে যোগ দেয়। ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ফ্ল্যাটের মালিক সস্ত্রীক নিমন্ত্রণ বাড়িতে যান। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক বাদে বা঩ড়ি ফিরে দেখেন, আলমারির লক ভাঙা। গোটা ঘর কার্যত তছনছ করা হয়েছে। রাঁধুনি সেকেন্দার উধাও। আলমারিতে থাকা নগদ ২৭ হাজার টাকা, সোনা-হীরের গয়না, ২০টি রুপোর কয়েন, একাধিক দামি হাতঘড়ি উধাও। বাড়ির মালিক স্থানীয় বেহালা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয় থানার পাশাপাশি লালবাজারের অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াডের গোয়েন্দারা একযোগে তদন্তে নামেন।

    গোয়েন্দারা সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে দেখেন, সেই রাতে ৮টা ৩৩ মিনিট নাগাদ ব্যাগ হাতে কাজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে রাঁধুনি সেকেন্দার। ফলে তদন্তের প্রথম দিন থেকেই গোয়েন্দাদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে পলাতক সেকেন্দারের দিকেই। কিন্তু সেকেন্দার সম্পর্কে বিস্তারিত কোনও তথ্য ছিল না লালবাজারের হাতে। তবে রাঁধুনির কাজে ঢোকার সময়, ফ্ল্যাটের মালিককে একটি আধার কার্ডের প্রতিলিপি দিয়েছিল সেকেন্দার।

    তদন্তের স্বার্থে ওই আধার কার্ডকে হাতিয়ার করে এগতে গিয়ে বিহারের বাঁকার জেলার ঠিকানা এবং সেকেন্দারের শ্যালকের মোবাইল নম্বর হাতে আসে গোয়েন্দাদের। এরপর ওই মোবাইল নম্বরের কল ডিটেলস রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দারা সেকেন্দারের মোবাইল নম্বরের হদিশ পান। পাশাপাশি গোয়েন্দারা দেখেন, সেকেন্দারের মোবাইলটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের জীবনতলায় রয়েছে। 

    এরপরই ক্যানিংয়ের জীবনতলা থানা এলাকায় হানা দিয়ে লালবাজার প্রথমে অভিযুক্ত সেকেন্দার যাদব তথা পলাতক সেই রাঁধুনিকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে লালবাজার ‘রিসিভার’ তথা চোরাই মালের ক্রেতা হিসাবে একে একে অলোক মণ্ডল (৩১) এবং জলধর প্রমাণিককে (৪০) গ্রেপ্তার করেন। পাশাপাশি চুরি যাওয়া সামগ্রী পুরোটাই উদ্ধার 

    করতে পেরেছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)