• শান্তনুর সিএএ সচেতনতা শিবির ‘ফ্লপ’, ঠাকুরবাড়িতে উন্মাদনা অভিষেককে ঘিরেই
    বর্তমান | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বনগাঁ: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের আগাম হুঁশিয়ারির কোনও প্রভাবই পড়ল না! শুক্রবার যথাসময়ে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে এলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কাঁসর, ডঙ্কা বাজিয়ে, নিশান উড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানালেন মতুয়ারা। নির্বিঘ্নে পুজো দিলেন। অভিষেকের সফরের আগের দিন আচমকাই শান্তনু ঘোষণা করেন, শুক্রবার ঠাকুরবাড়ির নাটমন্দিরের সামনে হবে সিএএ সচেতনতা ক্যাম্প। সেই ক্যাম্প নিয়ে বরং তেমন কোনও সক্রিয়তা বা স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা গেল না। ঠাকুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে তিনি বলে গেলেন, ‘মতুয়াদের আবেগ ব্যবহার করে যারা বিশ্বাসভঙ্গ করেছে, তাদের জবাব দেবেন মতুয়ারাই।’ 

    অভিষেকের কর্মসূচি ঘিরে এদিন সকাল থেকে মতুয়া ভক্তদের আনাগোনা শুরু হয় ঠাকুরবাড়িতে। এরপর বেলা যত গড়িয়েছে, ভিড় তত বেড়েছে। দুপুর ১টা নাগাদ নিজের বাড়ি থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে সিএএ সচেতনা শিবিরে আসেন শান্তনু। তাঁর বাড়ি পাহারার দায়িত্বেই ছিলেন প্রায় ৪০০ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। তবে অভিষেকের আসার সময় যত এগিয়েছে, ততই ফাঁকা হয়েছে শান্তনুর শিবির। মাইকে ঘোষণা করে মতুয়াদের বারবার সচেতনতা শিবির থেকে উঠে না যাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু তা কানে তোলেনি কেউ। 

    বনগাঁর কিষাণ মান্ডির মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নামে অভিষেকের কপ্টার। বনগাঁ থেকে ঠাকুরনগর পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছন অভিষেক। সেখানে মমতা ঠাকুর ও তাঁর মেয়ে মধুপর্ণা ঠাকুর তাঁকে বরণ করে নেন। অভিষেক পুজো দেন হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ মন্দিরে। পরে যান বড়মা বীণাপাণি ঠাকুরের মন্দিরে। দু’পক্ষের দু’জন গোঁসাই ছিলেন অভিষেকের পুজো দেওয়ার পর্ব সুসমাধা করার জন্য। একজন শান্তনু ঘনিষ্ঠ গোঁসাই বিকাশ কীর্তনীয়া। অন্যজন তৃণমূলের ভজহরি রায়। 

    অভিষেক চলে যেতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিবেষ্টিত হয়ে হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে আসেন শান্তনু ঠাকুর। তিনি জানান, অভিষেক য় চলে যাওয়ার পর মতুয়ারা কামনা সাগরের জল ছিটিয়ে মন্দির শুদ্ধিকরণ করেছেন। তৃণমূলের কর্মসূচি ফ্লপ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুর পালটা বলেন, ‘শান্তনু ঠাকুর মতুয়াদের রোহিঙ্গা-মুসলমান যদি বলতে পারে, তাহলে ওর কাছ থেকে ভালো কিছু কীভাবে আশা করব?’ 

    এদিকে, শান্তনুর ঘোষণা মতো নাটমন্দিরে আয়োজিত সিএএ সচেতনতা শিবির নিয়ে সকাল থেকে এলাকায় মাইক প্রচার করা হয়। কিন্তু সেখানে শান্তনুর কয়েকজন ছায়াসঙ্গী ছাড়া আর তেমন কারও দেখা মেলেনি। শান্তনুর দাদা তথা বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরও এদিন বাড়ি থেকে বের হননি। দুই বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া ও স্বপন মজুমদারকেও দেখা যায়নি। এই অবস্থায় বনগাঁজুড়ে জল্পনা, মতুয়াদের মধ্যে শান্তনুর রাশ কি ক্রমশ আলগা হচ্ছে? শান্তনু প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দুনাথ গাইন অবশ্য বলেন, ‘মতুয়াদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ছিল। অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে।’ তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের তরফে মধুপর্ণা ঠাকুর বলেন, ‘মতুয়ারা বুঝতে পেরেছে, বিজেপি কীভাবে মানুষ ঠকাচ্ছে। ওদের কথা আর কেউ শুনবে না।’
  • Link to this news (বর্তমান)