নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতেই থাকছে শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মীদের পেনশন সংক্রান্ত হিসেবনিকেশ। শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাদপ্তর জানিয়েছে, জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির হাতেই এই দায়িত্ব ছাড়া হচ্ছে। বাম আমলের একটি নির্দেশিকার ভিত্তিতে অবসরকালীন আর্থিক প্রাপ্যের হিসেব ডিরেক্টরেট অব পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যান্ড গ্রুপ ইনশিয়োরেন্সের (ডিপিপিজি) হাতে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল দপ্তর। একের পর এক কড়া অর্ডার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে এর জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতেও বলা হয়েছিল। তবে, আপাতত এ নিয়ে ধীরে চলো নীতি নিয়েছে বিকাশ ভবন। এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে দপ্তর জানিয়েছে, কলকাতা এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে এটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ছাড় চাওয়া হয়েছিল। তাতে বলা হয়, ডিপিপিজির হাতে গেলে পেনশন বা গ্র্যাচুইটি পেতে দেরি হবে। সেই আবেদনও মাথায় রাখা হয়েছে। তাছাড়া, শিক্ষকদের একাংশের তরফে প্রথম থেকেই দাবি করা হচ্ছিল, পেনশন নির্ধারণের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া আসলে স্বাধিকারে হস্তক্ষেপ। সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠকও করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা। তারপরেই দপ্তর জানিয়েছে, আপাতত প্রভিশনাল পেনশন দেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে থাকবে। কোনওভাবে বেশি পেনশন দেওয়া হয়ে গেলে তা গ্র্যাচুইটি থেকে অ্যাডজাস্ট করা যাবে। পেনশন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে নানা অভিযোগ উঠছিল। সে-কথাও এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে দপ্তর। তারা উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেছে, ১৩-১৪ বছর কাজ করেও কেউ কেউ পুরো পেনশন এবং গ্র্যাচুইটির টাকা পেয়েছেন। এই ধরনের ভুল বা অনিয়ম এড়াতেই ডিপিপিজির হাতে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। প্রসঙ্গত, বাম আমলে এই অর্ডার জারি হলেও কখনও কার্যকর করা হয়নি। অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুটার বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্পাদক দেবব্রত দাস বলেন, এই ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে রেখে দেওয়ার দাবিতে আমরা অনড়।