• মুখ্যমন্ত্রীর মিছিলে মহিলাদের ঢল, বহুতল থেকে নেমে শুভেচ্ছা কঙ্কনা-রূপাদের
    বর্তমান | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর ৮বি বাস স্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড়। প্রায় ১০ কিলোমিটার। আই প্যাকের অফিসে ইডি হানার প্রতিবাদে মিছিল করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে তাঁর এই প্রতিবাদ মিছিলকে সমর্থন জানালেন লক্ষাধিক মানুষ। যেখানে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এদিন একেবারে ভিন্ন কারণে দুধারের বহুতল থেকে নেমে এসে মিছিলকে সমর্থন জানালেন মহিলা ভোটাররা। তাঁদের অভিযোগ, এসআইআরের নামে হয়রানির বিরুদ্ধে। মমতা সামনে আসতেই তাঁর কাছে এগিয়ে গিয়ে তাঁর এই লড়াইয়ের পাশে থাকার অঙ্গীকার করতেও দেখা গেল কঙ্কনা দে-রূপা চক্রবর্তীদের।

    সুইস পার্কের বাসিন্দা একান্ন বছর বয়সী রূপা চক্রবর্তী। বিয়ের পর থেকে দীর্ঘদিন বসবাস করছেন এই এলাকায়। অথচ তাঁর ডাক পড়েছে শুনানিতে। শুনানি পর্বও মিটে গিয়েছে। কিন্তু আশঙ্কা কাটেনি। ‘কী জানি আদৌ চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকবে কি না? যাই হোক এই কারণে আমাদের মতো সাধারণ নাগরিকদের এতো হয়রানি না করলেই হতো। আমার মত কত মহিলাকে দেখলাম শুনানিতে গিয়েছেন। খারাপ লাগছিল। আর সেই কারণেই আজ এখানে এসে দাঁড়িয়ে আছি। এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য মমতাকে শুভেচ্ছা জানাতে। 

    এদিন রাস্তার ধারে তৃণমূল সুপ্রিমোকে শুভেচ্ছা জানাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল অনেক বৃদ্ধাকেও। মমতাকে এক ঝলক দেখার জন্য সাউথ সিটি মলের অদূরে দাড়িয়ে থাকা ষাটোর্ধ্ব সীমা চ্যাটার্জির কথাতেও উঠে এল, এসআইআর নিয়ে উদ্বেগে। তিনি বলেন, ‘জীবনে কোনওদিন এসব শুনিনি। একটু হলেও ভয় তো আছেই। সব কাগজ পত্র তো জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চিন্তা হয়, ভোটাধিকার থাকবে কি না!’

    এদিন মিছিল শেষে এই সমস্ত মানুষকে নিরাশ করেননি মুখ্যমন্ত্রীও। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ের জন্য তিনি দিল্লি যাবেন বলে এদিনই ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবারের ইডি হানা তাঁকে যে লড়াইয়ের রসদ জুগিয়েছে, তা জানিয়ে, মমতা বলেন, নির্বাচন আসলে আমরাও বুঝিয়ে দেব, কত ধানে কত চাল। ওরা ভাবছে, এসআইআর করে নাম বাদ দিয়েই ভোট ঘোষণা করে দেবে। এটা কিন্তু হতে দেব না। আমরা কী হাতে ললিপপ ধরে বসে আছি? তোমাদের হাতে ললিপপ কী করে ধরাতে হয় আমি জানি! 

    এদিনের মিছিলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পা মেলান অভিনেতা দেব, সোহম চক্রবর্তী, সায়নী ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, জুন মালিয়া সহ তৃণমূলের একাধিক সাংসদ, মন্ত্রী, বিধায়করা। তাঁদের সাক্ষী রেখেই পদ্মপার্টিকে মমতার হুঁশিয়ারি— ‘বিজেপি হল দু’কান কাটার দল, হামলাকারীর দল, জুমলাবাজদের দল। একজন বৈধ ভোটারের নামও বাদ দিতে দেব না।’  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)