নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের (পিএমএলএ) ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যে কোনও জায়গায় যখন তখন সার্চ অপারেশনে যেতে পারে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। স্থানীয় পুলিশ সহ কাউকেই জানাতে বাধ্য নয় তারা। আধিকারিকদের নিরাপত্তায় থাকে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সার্চ অপারেশন পর্বে কেবলমাত্র আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিগড়ে গেলে, তবেই স্থানীয় পুলিশের সাহায্য নিতে পারে কেন্দ্রীয় এই এজেন্সি। বৃহস্পতিবার সাত সকালে সেই আইনের ভিত্তিতেই ইডি হানা দিয়েছিল কলকাতা ৭ নম্বর লাউডন স্ট্রিটে, আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাসস্থানে। সাধারণত প্রয়োজনীয় নথিপত্র উদ্ধার করে ফিরে যাওয়াটাই তাদের রীতি। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডেকে পাঠিয়ে করা হয় নথি যাচাই। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে তল্লাশি শুরুর পাঁচ ঘণ্টা পর বেনজিরভাবে শেক্সপিয়র সরণি থানাকে ইমেল করে ইডি। নিজেদের উপস্থিতির কথা জানায়। কিন্তু কেন এই কাজ করল কেন্দ্রীয় এজেন্সি? আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিগড়ে যেতে পারে, এমন কোনও ঘটনা তো তখন লাউডন স্ট্রিটের আবাসনে ঘটেনি!
গত কয়েক বছরে নানা মামলার তদন্তে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কখনও কাকভোরে, কখনও আবার রাতে হানা দিয়েছে ইডি। সিংহভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় পুলিশকে ‘ব্রাত্য’ রাখার উদাহরণ রয়েছে। আইপ্যাক কর্তার বাড়ির অভিযানে কী এমন ঘটল, যাতে সার্চ অপারেশন শুরুর সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর কলকাতা পুলিশকে ইমেল করতে হল ইডিকে? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কারও ‘অঙ্গুলি হেলনে’ই এই কাজ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তরফ থেকে বার্তা পাওয়ার পরই ডিসি (সাউথ) প্রিয়ব্রত রায় এবং শেক্সপিয়র সরণির অ্যাডিশনাল ওসি শিলাদিত্য পাল লাউডন স্ট্রিটে পৌঁছান। অভিযোগ, পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও ইডি আধিকারিকদের নিরাপত্তায় থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী ডিসি’র সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়। ইমেল পাওয়ার পর পুলিশ যে আসবে, তা জানতেন ইডি আধিকারিকরা। কেন সেই খবর কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের জানানো হয়নি? তবে কি পুলিশকে ডেকে এনে ‘হেনস্তা’ করাই ছিল মূল পরিকল্পনা? নাকি ‘ফাঁদ’ পাতা হয়েছিল, যাতে পুলিশ কমিশনার তো বটেই স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমোকে পর্যন্ত প্ররোচিত করা যায়। পুলিশকে জানানোর আগের পাঁচ ঘণ্টাতেই বা কী করছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি? এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এখন। তাছাড়া লাউডন স্ট্রিটের সঙ্গেই ইডি’র টিম হানা দিয়েছিল সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দপ্তরে। এলাকাটি ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার আওতাভুক্ত। সেখানে অভিযান শুরুর আগে বা চলাকালীন স্থানীয় থানাকে মেল বা ফোন কিছুই করেনি ইডি। দু’জায়গায় দু’রকম আচরণ কেন? রাজনৈতিক-প্রশাসনিক মহলে সন্দেহ দানা বাঁধছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রী যাওয়ার আগে পর্যন্ত বিস্তর সময় পেয়েছিল ইডি। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির টিম পৌঁছেছে, ধরে নেওয়াই হয় তারা কাগজপত্র এবং ইলেকট্রনিক এভিডেন্স বাজেয়াপ্ত করে সিজার লিস্ট বানাবে। কিন্তু পাঁচঘণ্টা সময় পেলেও, লাউডন স্ট্রিটে তেমনটা করা হয়নি। ঘটনার পর বিবৃতি দিয়ে ইডি জানিয়েছে, তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও বৈদ্যুতিন তথ্যপ্রমাণ ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সিজার করা নথিপত্র-সরঞ্জাম নয়।
এবিষয়ে আইপ্যাকের প্রতিক্রিয়া, আমাদের মতো পেশাদার সংস্থার কাছে দুর্ভাগ্যজনক দিন। আমরা উদ্বিগ্ন। অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইনকে সম্মান করি। সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।