নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: নির্ধারিত সময়ে কি আদৌ প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা? বিষয়টি নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যাবে না বলেই মনে করছেন কমিশন কর্তাদের একাংশ। কারণ, যে সংখ্যক শুনানি বাকি রয়েছে, তাতে সময়মতো কাজ শেষ হওয়া কার্যত অসম্ভব।
২০০২ সালের তালিকায় নিজের বা কোনও আত্মীয়ের নাম না থাকা অর্থাৎ নো-ম্যাপ ভোটারের সংখ্যা ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন। প্রত্যেককেই শুনানির সম্মুখীন হতে হবে। নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে সেই প্রক্রিয়া। কমিশন সূত্রে খবর, নো-ম্যাপ ভোটারদের শুনানির নোটিস দেওয়ার কাজই এখনও শেষ করা যায়নি। শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ২৬ লক্ষ ব্যক্তির কাছে নোটিস পৌঁছেছে। শুনানি হয়েছে ৮ লক্ষের কিছু বেশি। দৈনিক গড়ে ৭০ হাজার মানুষের শুনানি হচ্ছে রাজ্যে। শুধু নো-ম্যাপ ভোটারই নয়, প্রায় ৯৪ লক্ষ সন্দেহজনক ভোটারেরও শুনানি হওয়ার কথা। গোটা প্রক্রিয়া যে গতিতে চলছে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই নির্ধারিত দিনে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যাবে না বলেই মনে করছেন কমিশন কর্তাদের একাংশ।
বিশেষ রোল অবজারভারদের নির্দেশ অনুযায়ী শুনানিতে আপাতত নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক নথি যাচাই করবেন জেলাশাসক তথা ডিইওরা। সেক্ষেত্রেও বিস্তর সময় প্রয়োজন। জানা যাচ্ছে, বিএলওদের পর কাজের চাপে বিরক্ত এইআরও-রা। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কমিশনে চিঠিও গিয়েছে। নো-ম্যাপ ভোটারদের পাশাপাশি এক-একজন ইআরও-কে তিন-চার হাজার শুনানি করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তা করতে প্রচুর সময় প্রয়োজন বলেই তাঁদের একাংশের দাবি। ইতিমধ্যেই এইআরও-র দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বাগনান বিধানসভা কেন্দ্রের মৌসম সরকার। প্রশাসন সূত্রে খবর, চিঠি এখনও গৃহীত হয়নি। মৌসম বাগনান দু’নম্বর ব্লকের ব্লক ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অফিসার। আগামী ১৪ জানুয়ারি বাগনান ২ নম্বর ব্লকে শুরু হচ্ছে সন্দেহজনক ভোটাদের শুনানি। ওই ব্লকে প্রায় ২৪ হাজার সন্দেহজনক ভোটার রয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, এই পর্বে ডায়মন্ডহারবার, ফলতা সহ কয়েকটি বিধানসভার ভোটার তালিকার স্পেশাল অডিটের দাবি জানিয়েছে সিপিএম। দলের তরফে শমীক লাহিড়ী শুক্রবার আরও বেশ কিছু দাবি নিয়ে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের সিইওকে।
কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, শুনানি প্রক্রিয়া সময়মতো শেষ না করা গেলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন জানানো হবে। পশ্চিমবঙ্গে দ্রুততার সঙ্গে ইনিউমারেশন পর্বের কাজ শেষ হলেও বাকি রাজ্যগুলির আবেদনের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছিল কমিশন। এক্ষেত্রেও তেমনটা হতে পারে। যদিও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছিয়ে গেলে ভোটের দিনক্ষণ স্থির করার উপর সরাসরি প্রভাব পড়বে।