• এ বার প্রবল গরমের দোসর কি কম বৃষ্টিপাত? ‘লা নিনা’ কেটে ‘এল নিনো’ আসলেই বিপদ
    এই সময় | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: ভরা শীতের বাজারেই চড়া গরমের পূর্বাভাস দিল ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্ট (ইসিএমডব্লিউএফ)। জানিয়ে দিল আগামী গ্রীষ্ম ভারতের জন্য বেশ কষ্টকর হতে চলেছে। বর্ষার মরশুমেও বৃষ্টির পরিমাণ মোটের উপর কমই থাকবে।

    প্রশান্ত মহাসাগরের জলের উপরিতল স্বাভাবিকের চেয়ে ঠান্ডা থাকার ফলে — অর্থাৎ ‘লা নিনা’ পরিস্থিতির জন্য এ বার বর্ষায় ভারত অতিরিক্ত বৃষ্টি পেয়েছে। শীত পড়তে কিছুটা দেরি হলেও সেই শীতের প্রাবল্য শেষ পর্যন্ত হতাশ করেনি দেশবাসীকে। বছরের বেশির ভাগ সময়ে গরম আবহাওয়া থাকার জন্য গোটা দেশ শীতের তিন মাস জমিয়ে উপভোগ করার আশায় থাকে। সেই আশাও পূর্ণ হয়েছে।

    তবে জানুয়ারির প্রথম ভাগ কাটার আগেই আবহবিদরা আগামী গ্রীষ্ম নিয়ে ‘খারাপ’ খবর শোনাচ্ছেন। তাঁদের মতে, ‘লা নিনা’ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হচ্ছে। এর বদলে তৈরি হচ্ছে ‘এল নিনো’। অর্থাৎ প্রশান্ত মহাসাগরের জল গরম হওয়ার লক্ষণ দেখাতে শুরু করেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, শক্তিশালী ‘এল নিনো’ ২০২৬-এর গ্রীষ্মের আগেই ‘সেট ইন’ করবে। ফলে এ বার ভারতীয় উপমহাদেশে চড়া গরমের আশঙ্কা খুব বেশি। একই সঙ্গে আগামী বর্ষায় বৃষ্টির পরিমাণও কম থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    আবহবিদদের নজর এখন নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের উপরে। এখানেই ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির দ্রুত বিকাশের ফলে বর্তমানের ‘লা নিনা’ অবস্থার দ্রুত অবসান ঘটার সম্ভাবনা প্রবল। মনে করা হচ্ছে, ২০২৬-এর ‘এল নিনো’ বেশ শক্তিশালী রূপ নিতে চলেছে। আবহাওয়া বিজ্ঞান মনে করে, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের এই ‘এল নিনো সাদার্ন অসিলেশন’ (ENSO) প্রক্রিয়ায় ভারত-সহ বিশ্বের অনেক দেশেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার গ্রীষ্মকাল নিয়ে আসে। এর প্রভাবে বিশ্বের গড় তাপমাত্রাও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণও কমে।

    অতি সম্প্রতি, ইসিএমডব্লিউএফ-এর মডেল এমনই একটি ‘এল নিনো’ তৈরির জোরালো পূর্বাভাস দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আবহবিদরা জানাচ্ছেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় বায়ুপ্রবাহের ধরনের পরিবর্তন থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে ইতিমধ্যেই এই রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।

    একাধিক মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ‘এল নিনো’-র গঠন সম্পূর্ণ হবে। এর তীব্রতা মাঝারি থেকে প্রবল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জানানো হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে বিরাজমান ‘লা নিনা’-টি অতি দ্রুত একটি নিরপেক্ষ অবস্থার দিকে এগোচ্ছে। আবহবিদদের অনেকেই জানাচ্ছেন, ‘লা নিনা’–র এত দ্রুত নিরপেক্ষ হওয়ার নজির খুব বেশি নেই। তবে অনেক বিজ্ঞানী এমনটাও মনে করছেন যে, ২০২৬-এর ‘এল নিনো’ শক্তিশালী হলেও সেটি বিশ্ব উষ্ণায়নে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না।

    ২০২৩ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত আবহাওয়ার অনেক রেকর্ডই ভেঙেছে। তার নেপথ্যে ‘এল নিনো’-র ভূমিকাও খুব বেশি। গত তিন বছরের নজিরবিহীন উষ্ণতার রেশ কিছুটা কেটেছিল ‘লা নিনা’। কিন্তু তারও স্থায়িত্ব তেমন বেশি হলো না। তাই ২০২৬ ও ২০২৭-এ বিশ্বের গড় তাপমাত্রা কোন জায়গায় যেতে চলেছে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ চিন্তায় পরিবেশবিদরা। অনেকেরই আশঙ্কা ২০২৬ হয়তো ২০২৪ এবং ২০২৫-এর মতোই প্রাক-শিল্প বিপ্লব যুগের তুলনায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উষ্ণ হবে।

  • Link to this news (এই সময়)