• অভিষেকের সভা নিয়ে উত্তাপ বাড়ছে বার্নপুরে
    এই সময় | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, আসানসোল: এগিয়ে আসছে বিধানসভা নির্বাচন। উত্তাপ বাড়ছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার। ২৫ জানুয়ারি এখানে রোড–শোর পাশাপাশি সভা করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের আগমন ঘিরে এখন থেকেই রীতিমতো চনমনে হয়ে উঠেছেন দলীয় নেতা–কর্মীরা।

    দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সভা হবে বার্নপুরে, দ্বিতীয় বার কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পরে মোদী সরকার যে বার্ন স্ট্যান্ডার্ড কারখানা বন্ধ করে দিয়েছিল। বার্নপুরের ৭৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে বার্নপুর শহরের এই কর্মসূচি, যে ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অশোক রুদ্র। তিনি জানান, অভিষেকের আগমনের খবরে দলীয় স্তরে প্রবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। অভিষেক বার্নপুরের ত্রিবেণী মোড় থেকে স্টেশন মোড় পর্যন্ত পদযাত্রা করবেন।

    কেন বার্নপুরকে বেছে নেওয়া হয়েছে? শোনা গিয়েছে, এটি আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী প্রার্থী সায়নী ঘোষ হেরেছিলেন। শেষ লোকসভা নির্বাচনেও এই বিধানসভা হারে তৃণমূল। ফলে হৃতসম্মান ফিরিয়ে আনতে এই জায়গাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

    দলীয় সূত্রে খবর, দলের নেতাদের সঙ্গে ‘আইপ্যাক’ সংস্থার প্রতিনিধিরা গোটা এলাকা ঘুরে দেখার পরে বার্নপুরেই রোড–শো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আরও জানা গিয়েছে, বার্নপুরের সঙ্গে এক দিকে কুলটি বিধানসভার একাংশ যুক্ত, অন্য দিকে আসানসোল উত্তর বিধানসভার কিছু অংশও যুক্ত আছে। তা ছাড়া নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পরে আসানসোল শিল্পাঞ্চলের যে দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বন্ধ করেছিল, তার একটি ছিল রূপনারায়ণপুরের হিন্দুস্থান কেবলস টেলিফোন তার তৈরির কারখানা এবং দ্বিতীয়টি বার্ন স্ট্যান্ডার্ড ওয়াগন কারখানা।

    বিশেষ করে, বার্ন সট্যান্ডার্ড কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। অনেক কর্মী এখনও কারখানা লাগোয়া পরিত্যক্ত আবাসনগুলিতে থাকেন। আলোর কোনও ব্যবস্থা নেই। প্রত্যেকটি বাড়ি ভগ্নপ্রায়। এ ছাড়াও বার্নপুরের ইস্কো কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি পাঁচটি স্কুলকে বন্ধ করার দিকে এগোচ্ছেন। যা নিয়ে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এখানকার স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তো বিজেপির অগ্নিমিত্রা পল। তিনি কেন এই বিষয়গুলির প্রতিবাদ করছেন না?

    যদিও অভিষেকের সভাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেছেন, ‘দল এখানে আমাকে অথবা অন্য কাউকে বিজেপির প্রতীকে দাঁড় করালে তিনিই জিতবেন। ঘরের মেয়ে হিসেবে আমি বলতে পারি, গত বারের তুলনায় এ বার বিজেপি এখান থেকে আরও বেশি ভোটে জিতবে। গত পাঁচ বছর ধরে এখানকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে আমার। ওঁদের জন্য অনেক কাজও করেছি।’

  • Link to this news (এই সময়)