• RTC পেরোল কলকাতা মেট্রোর পার্পল লাইনের ‘দুর্গা’, জুনে পৌঁছবে ভিক্টোরিয়ায়?
    এই সময় | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: জোকা–বিবাদী বাগ মেট্রো রেল প্রকল্প অর্থাৎ কলকাতা মেট্রোর পার্পল লাইনের কাজ দ্রুত গতিতেই এগোচ্ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন এই লাইন নির্মাণের ভারপ্রাপ্ত সংস্থা রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড–এর (আরভিএনএল) আধিকারিকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, খিদিরপুর থেকে জুলাইয়ে এসপ্ল্যানেড অভিমুখে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ শুরু করেছিল টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) ‘দুর্গা’। সেই যন্ত্রটি নভেম্বর নাগাদ পৌঁছয় রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাব–এর (আরসিটিসি) নীচে। সুড়ঙ্গ কেটে এগনোর পথে যন্ত্রটি নিরাপদে আরসিটিসি পার করে গিয়েছে।

    রেস কোর্সের নীচ দিয়ে যতটা পথ পার করার কথা ছিল টিবিএম ‘দুর্গা’–র, তার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০০ মিটার। দু’মাসে সেই পথ অতিক্রম করে যন্ত্রটি আপাতত ভিক্টোরিয়া স্টেশনের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। ১৮৪৭–এ প্রতিষ্ঠিত কলকাতা রেসকোর্সের অংশ রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাব শহরের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী ল্যান্ডমার্কগুলোর অন্যতম। সুড়ঙ্গের গতিপথের যে নকশা তৈরি হয়েছিল, সেই অনুযায়ী টিবিএম ‘দুর্গা’ ক্লাবের হেরিটেজ স্ট্যান্ডগুলোর নীচ দিয়ে এগিয়েছিল। ওই স্ট্যান্ডগুলো ১৯০১–০২য়ে নির্মিত। সুতরাং নিয়ম অনুযায়ী সেগুলোও ‘হেরিটেজ’ স্বীকৃতি পায়। তাই ওই এলাকা পার করার জন্য টিবিএম–কে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে।

    আরভিএনএল সূত্রের দাবি, খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত টানেল তৈরির প্রথম ধাপ ২০২৬–এর ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। এর মধ্যে ‘দুর্গা’ ২০২৬–এর জুনে ভিক্টোরিয়া পৌঁছবে। জোড়া সুড়ঙ্গের অন্যটি তৈরির দায়িত্বে রয়েছে ‘দুর্গা’র সহযোগী টিবিএম ‘দিব্যা’। সেটি ভিক্টোরিয়া পৌঁছবে ২০২৬–এর ডিসেম্বরে। জানা গিয়েছে, ‘দিব্যা’ বর্তমানে টালি নালা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

    ফেব্রুয়ারিতে সেটি আরসিটিসি পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত টানেলের কাজ শেষ হওয়ার জন্য ২০২৭–এর মার্চকে ডেডলাইন হিসেবে ধরা হয়েছে। খিদিরপুরের সেন্ট থমাস বয়েজ় স্কুলের মাঠের একটি শ্যাফট তৈরি করে দু’টি টিবিএম সেখান দিয়ে নামানো হয়েছে। খিদিরপুর ও পার্ক স্ট্রিটের মধ্যবর্তী ১.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ তৈরি হলে এদের কাজ শেষ হবে। পার্ক স্ট্রিট থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত অংশে সুড়ঙ্গ তৈরিতে টিবিএম ব্যবহার করা হবে না।

    আরভিএনএল জানিয়েছে, আরসিটিসির নীচ দিয়ে সুড়ঙ্গ কাটার সময়ে কোনও জায়গায় মাটি সামান্যতমও বসে যাচ্ছে কি না সেটা বোঝার জন্য হেরিটেজ স্ট্যান্ডগুলোতে ‘লাইভ মনিটরিং সেন্সর’ বসানো হয়েছিল। তবে সবাইকে নিশ্চিন্ত করেই নির্বিঘ্নে আরসিটিসি পেরিয়েছে ‘দুর্গা’। ১০০ মিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ৬০০ টন ওজনের এই যন্ত্রের সামনে আপাতত ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল স্টেশন পর্যন্ত পথ একদম সোজা এবং অবাধ।

  • Link to this news (এই সময়)