• প্রোমোটারকে বাড়ি দিয়ে মাকে বৃদ্ধাশ্রমে! পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
    এই সময় | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি: বয়স হলে কি মা বোঝা হয়ে যায়? শিলিগুড়ির এক বৃদ্ধাকে নিয়ে এমনই প্রশ্ন তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    একটু রাগ, একটু অভিমান নিয়ে মঙ্গলবার বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন শিলিগুড়ির সুভাষপল্লির বছর সত্তরের মালতি কুণ্ডু। কোথায় যাবেন, কেন যাবেন, সেটা হয়তো নিজেও ঠিক জানতেন না। সুভাষপল্লি থেকে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গিয়েছিলেন অনেক দূরে, এনজেপি এলাকায়। বুকভরা ভয় নিয়ে পথচলা বৃদ্ধাকে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দা বিশু সাহার। খবর যায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে। সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এনা সাহা কয়েকজনকে নিয়ে সেখানে যান। পুলিশের উপস্থিতিতে মালতিকে উদ্ধার করা হয়।

    বৃদ্ধা ঠিকমতো ঠিকানা বলতে না-পারায় শুরু হয় ছেলের খোঁজ। দু'দিন পরে খোঁজ পাওয়া গেলেও ছেলে মালতিকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। এনা জানিয়েছেন, বৃদ্ধার ছেলে কনকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বর্তমানে বাড়িটি তৈরির জন্য প্রোমোটারকে দেওয়ার কথা। সেই কারণে ভাড়াবাড়িতে যেতে হবে। কিন্তু মা মানসিক ভাবে অসুস্থ থাকায় বাড়িভাড়া পাওয়া যাবে না।দু'বছরের জন্য মালতিকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখার ব্যবস্থা করতে বলেন কনক।

    কিন্তু এমনটা সম্ভব নয় বুঝে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে মালতিকে নিয়ে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা শিলিগুড়ি থানায় হাজির হন। তবে পুলিশ কোনও কথা শুনতে চায়নি বলে অভিযোগ। এমনকী চেষ্টা করেও আইসি প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন এনা।

    তাঁর সংযোজন, 'আমরা বৃদ্ধাকে পুলিশের কাছে দিয়ে বিষয়টির তদন্ত হোক সেটাই আবেদন করেছিলাম। কিন্তু পুলিশ কোনও রকম লিখিত অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে।' পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হতেই ভ্যানে বসিয়ে ওই বৃদ্ধাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসে পুলিশ। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে শিলিগুড়ি থানার আইসি এবং ওসি দীপ্তজিৎ ধর লিখিত ভাবে অভিযোগ নেওয়ার বিষয়টি খারিজ করে দেন। আইসি বলেন, 'কোন সংগঠনের কী স্বার্থ রয়েছে, সেটা দেখা আমাদের বিষয় নয়।' ওসির বক্তব্য, 'মহিলাকে প্রথমে এনজেপি থানা এলাকায় দেখা গিয়েছে। ওঁরা তো সেই থানায় যেতে পারত।'

    গোটা ঘটনায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বৃদ্ধার ছেলে কনক। তিনি বলেন, 'কিছু সমস্যা রয়েছে ঠিকই তবে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিইনি। মানসিক ভাবে সমস্যা থাকায় মা নিজেই মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এ বারও মা বেরিয়ে যাওয়ার পরে আমরা খোঁজাখুঁজি করেছিলাম।'

  • Link to this news (এই সময়)