• ছ’বছর আগে তৈরি ফ্ল্যাট, আজও পাননি পায়েলরা!
    এই সময় | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, আসানসোল: হতদরিদ্রদের জন্য বানানো হয়েছিল আবাসন। কিন্তু ফাঁকাই পড়ে রয়েছে। শহরাঞ্চলের গৃহহীনদের জন্য ন্যূনতম খরচায় পাকা ছাদের ব্যবস্থা করতে আসানসোল পুরসভার ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডে ডামরায় তৈরি করা হয়েছিল বিপিএল আবাসন। প্রায় ছ’বছর আগে বানানো ওই চারতলা আবাসনগুলির সিংহভাগ আজও বণ্টন করা হয়নি। করা হয়নি রক্ষণাবেক্ষণও। এখন জীর্ণ অবস্থা আবাসনগুলির। দরজা জানালা খুলে নিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। সন্ধ্যা ঘনালেই বসছে নেশার আসর।

    রাজ্য সরকার বিপিএল তালিকাভুক্তদের জন্য ২০১৭–য় এই আবাসন প্রকল্প শুরু করে। ওই সময়ে আসানসোল পুরসভাকে প্রায় ৭৭১ কোটি টাকা অনুদানে সাড়ে তিন হাজার আবাসন তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়। ডামরায় এই প্রকল্পে ২০১৮–তে ১৫টি চারতলা আবাসন নির্মাণ করা হয়। প্রতিটিতে আটটি করে ১২০টি ফ্ল্যাট বানানো হয়। সেই আবাসনগুলি ভূতুড়ে অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

    ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, হাতে–গোনা সাকুল্যে ১০টি পরিবার বসবাস শুরু করেছে। কিন্তু এত বড় এলাকায় মাত্র কয়েক জন বসবাস করার ফলে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। আবাসনগুলিতে জল ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা থাকলেও পুরসভার তরফে সে সব করা হয়নি। যাঁরা বসবাস করছেন, তাঁরা নিজেরাই সে সবের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন।

    ওই আবাসনের প্রথম আবাসিক পেশায় ঠিকাশ্রমিক মানিক দাস বললেন, ‘মাস তিনেক ধরে এখানে বসবাস করছি। জল, বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়নি। নিজের চেষ্টায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। সামনের রাস্তার কল থেকে পানীয় জল আনতে হয়। সাফাই বা নিকাশিরও কোনও বালাই নেই।’ আর এক আবাসিক পায়েল সোরেন বললেন, ‘সন্ধ্যা নামলে পুরো আবাসন চত্বর অন্ধকারে ডুবে যায়। খুব ভয় করে। ওই বাড়িতে একটু যা আলো জ্বলে।’ তাঁদের অভিযোগ, এখানে পরিকাঠামোগত সুবিধা বলতে কিছুই নেই। তাই কেউ এখানে আসতেও চাইছেন না। আরও অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা মদের আড্ডা বসায়। তাই নিরাপত্তার অভাবও বোধ করছেন তাঁরা।

    কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কোটি কোটি টাকা খরচ করে বানানো ওই আবাসনগুলি বণ্টন করা হয়নি কেন। মেয়র বিধান উপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আইনি জটিলতায় বণ্টন করা যায়নি। স্থানীয় কাউন্সিলারকে এ ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’ কী আইনি জটিলতা? এ বিষয়ে পুরসভা সুত্রে জানা গিয়েছে, ওই আবাসনগুলি ইসিএলের অনুমতি ছাড়াই সংস্থার জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে ইসিএলের বাধায় সেগুলি এত দিন বণ্টন করা যায়নি। এলাকার কাউন্সিলার তরুণ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, শিগগিরি বণ্টন করা হবে। প্রত্যেকের কাছ থেকে এককালীন ন’হাজার ৪০০ টাকা নিয়ে আবাসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)