চাঁদকুমার বড়াল
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। শনিবার মহকুমা শাসকের কাছে ইস্তফা পত্র জমা দেন তিনি। কী কারণে এই ইস্তফা, তার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গত কয়েক দিন ধরে চেয়ারম্যান পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো নিয়ে জল্পনা হচ্ছিল। এ দিন মহকুমা শাসক গোবিন্দ নন্দীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
রবীন্দ্রনাথের পদত্যাগের পরেই জোর জল্পনা, কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান হতে চলেছেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার দিলীপ সাহা। ১৩ জানুয়ারি কোচবিহারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা রয়েছে। সূত্রের খবর, তার পরেই সম্ভবত পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা করবে তৃণমূল।
২০২২ সালে কোচবিহারের পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূল জেতার পরে ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলার হয়ে চেয়ারম্যান হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তবে প্রথম দু’ বছর ঠিকঠাক গেলেও ২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকেই সমস্যা তৈরি হয়। তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা কাউন্সিলার অভিজিৎ দে ভৌমিকের সঙ্গে তাঁর ঠান্ডা লড়াই শুরু হয় বলে অভিযোগ তোলেন দলেরই একাংশ।
কোচবিহার শহরে পুরকর বৃদ্ধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নালিশ করেছিলেন দলের জেলা সভাপতি। তা নিয়ে একেবারে হইচই পড়ে যায় শহরে। পরে এই লড়াই আরও তীব্র হয়। ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গেও পুরসভার চেয়ারম্যানের লড়াই শুরু হয়। পুরকর বৃদ্ধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নালিশও করেন অভিজিৎ।
সব কিছু ছাপিয়ে যায়, যখন গত নভেম্বরে জেলা সভাপতি নিজে মেসেজ করে রবিকে পদ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সূত্রের খবর, সেই সময়ে রবি জানিয়েছিলেন, দলনেত্রী নিজে না বললে তিনি পদ থেকে সরবেন না। এই টানাপড়েনের মাঝেই শনিবার ইস্তফা দিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।
এই ইস্তফা নিয়ে এখনও রবীন্দ্রনাথের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ দলের বিশ্বস্ত কর্মী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সৈনিক। দলের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে তিনি কোচবিহার পুরসভার পুরপিতা পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দল তাঁকে যখন, যা দায়িত্ব দিচ্ছে, তা তিনি যথাযথ ভাবে পালন করছেন।’