দিগন্ত মান্না, পাঁশকুড়া
১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে পথ দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নানা কারণ। সড়কের দু’ধারে ফুটপাত দখল থেকে যেখানে সেখানে গার্ডরেল বসিয়ে দেওয়া। রয়েছে বেআইনি পার্কিং ও ‘কাট’ (স্থানীয় লোকজন নিজেদের সুবিধামতো ডিভাইডার কেটে দিয়ে সেই অংশে পারাপার করে)। আচমকা পারাপারে দুরন্ত গতিতে আসা যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা।
জাতীয় সড়ককে দখলমুক্ত করতে না পারলে দুর্ঘটনা ঠেকানো যাবে না––জানাচ্ছেন স্থানীয় মানুষই। এই নিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সচেতনতার প্রচার করুক, এমন দাবিও তোলা হয়েছে। পাঁশকুড়া থানা এলাকায় অন্যতম ব্যস্ত বাজার সিদ্ধা বাজার। সিদ্ধায় ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’দিকে রয়েছে অসংখ্য দোকান। নজর দিলেই দেখা যাবে জাতীয় সড়কের দু’দিকের ফুটপাথ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গিয়েছে। ফুটপাথ না থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন পথচারীরা। পরিণামে ঘটছে দুর্ঘটনা।
গত বছর ৯ অগস্ট নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিদ্ধা বাজারে ঢুকে পড়েছিল একটি লরি। লরির নীচে চাপা পড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর সিদ্ধার অদূরে জিঞাদায় একই ভাবে একটি কন্টেনারবাহী ট্রাক একাধিক দোকান ভেঙে ঢুকে পড়ে বাজারের মধ্যে। দুর্ঘটনায় জখম হন চারজন।
জাতীয় সড়কে ব্যস্ত বাজার এলাকায় পুলিশের তরফে গার্ডরেল দিয়ে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হলেও দেখা গিয়েছে, কয়েক কিলোমিটার অন্তর গার্ডরেল দেওয়ার ফলে বেপরোয়া গাড়িগুলি গার্ডরেল ভেঙেই ঢুকে পড়ছে। চালকদের একাংশের অভিযোগ, পুলিশের তরফে যে গার্ডরেলগুলি দেওয়া হয় সেগুলিতে অনেক সময় রিফ্লেক্টর থাকে না। ফলে সন্ধ্যার পরে নির্দিষ্ট দূরত্বে গার্ডরেলের অস্তিত্ব বোঝা সম্ভব হয় না। ফলে কখনও কখনও দর্ঘটনা এড়ানো যায় না। জাতীয় সড়কের পাশে বাজার ও মেলা বসা বিপজ্জনক।
অথচ প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গায় এই ছবি চোখে পড়বে। গত ২১ সেপ্টেম্বর পাঁশকুড়ার মেচগ্রামে বিশ্বকর্মা পুজোর মেলার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাড়ি ঢুকে পড়লে তিনজনের মৃত্যু হয়। কোলাঘাট এলাকায় জাতীয় সড়কের দু’দিকেই অসংখ্য হোটেল ও রেস্তঁরা। সেগুলির সামনে রাস্তা দখল করে অবাধে দাঁড়িয়ে থাকে সেখানে আসা লোকজনের গাড়ি।
জাতীয় সড়কে ছুটে আসা গাড়ির চালকেরা অনেক সময় দূর থেকে তা ঠাহর করতে পারেন না। ফলে দুর্ঘটনাও ঘটে। এছাড়া স্থানীয়রা নিজেদের পারাপারের সুবিধার্থে বেশ কিছু জায়গায় জাতীয় সড়কে বেআইনি ‘কাট’ তৈরি করে। সেগুলিও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। রাতে চালকের ঘুম ধরে যাওয়ার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে। একদা পুলিশের তরফে চালকদের ঘুম তাড়াতে বিভিন্ন থানা এলাকায় রাতে বা ভোরের দিকে বাস বা লরিচালকদের চা পান করানো শুরু হয়েছিল। এছাড়া ঘন কুশায়াও জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনা বাড়িয়েছে।
বিশেষ করে শীতের সময়। নাগরিক সুরক্ষা কমিটির মুখপাত্র নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন, ‘১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে দখলদারি, বেআইনি পার্কিং, ঘনঘন গার্ডরেল দেওয়া ––ইত্যাদির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। পুলিশের তরফে এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ জরুরি।’ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘জাতীয় সড়কে পথ দুর্ঘটনা ঠেকাতে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। অনিয়ম ঠেকাতে জাতীয় সড়কে নিয়মিত পুলিশি টহলদারি থাকে। গাড়ির চালক এবং পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ কর্মসূচি পালন করা হয়।’
তবে জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে যান চলাচল থেকে পারাপারের ক্ষেত্রে মানুষকেও সচেতন হতে হবে বলে তাঁদের দাবি। ২০২৫–এর ৯ অগস্ট সিদ্ধা বাজারে লরি ঢুকে তিনজনের মৃত্যু। ১৩ সেপ্টেম্বর জিঞাদায় দোকান ভেঙে ট্রাক ঢুকে পড়ায় জখম চারজন। ২১ সেপ্টেম্বর, পাঁশকুড়ার মেচগ্রামে মেলায় গাড়ি ঢুকে পড়ায় তিনজনের মৃত্যু।