কিরণ মান্না: ২০২৩ সালের ১ মে, বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল বিজেপি বুথ সভাপতি বিজয় কৃষ্ণ ভূঁইয়াকে। সেই মামলায় মৃতের স্ত্রী লক্ষ্মীরানি ভূঁইয়া ৩৪ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। সেই হত্যাকাণ্ডের ধোঁয়ায় শনিবার আবার অগ্নিকুণ্ডের মতো উত্তেজনা ছড়াল।
মামলাটি একটি সংবেদনশীল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখে কলকাতা হাইকোর্ট তদন্ত NIA‑কে (National Investigation Agency) দেয়। এরপর থেকে NIA এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে এবং একের পর এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করছে। ১০ জানুয়ারি পূর্ব মেদিনীপুরের সবং থানার দশগ্রাম এলাকা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী স্বপন ভৌমিককে NIA গ্রেফতার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং তদন্তকারীদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তাঁকে কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এছাড়াও বুদ্ধদেব মণ্ডল এবং কমল খুটিয়া নামের আরও কিছু অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। NIA ইতোমধ্যেই বেশ কিছু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এবং তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই নিয়ে NIA-র হাতে ১৭ জন গ্রেফতার হল।
বিজেপি দাবি করেছে, এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং এতে তৃণমূলের কিছু নেতার জড়িত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। NIA তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ময়নার বাকচা পঞ্চায়েত এলাকার গোড়ামহল গ্রামে বিজেপির বুথ সভাপতি বিজয়কৃষ্ণকে ২০২৩ সালের ১ মে বাড়ির কাছ থেকেই অপহরণ করে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। ওই খুনের ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এনআইএ তদন্তের আদেশ দেন। সেই নির্দেশের পর থেকে এনআইএর একটি প্রতিনিধি দল তদন্ত নামে।