আইপ্যাক মামলায় একতরফা শুনানি নয়, ইডিকে টেক্কা দিতে আগেভাগে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য
প্রতিদিন | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং আইপ্যাকের অফিসে ইডির অভিযান (I-PAC ED Raid) নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবারই ইডির দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। এরপরেই কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে বলে খবর। তার আগেই ক্যাভিয়েট দাখিল করল রাজ্য সরকার। আজ শনিবার সুপ্রিম কোর্টে এই ক্যাভিয়েট দাখিল করা হয়েছে। একতরফা শুনানি ঠেকাতেই রাজ্যের তরফে এহেন পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
২০২০ সালের দিল্লির কয়লা পাচার মামলার তদন্তে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সেই মামলাতেই বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। ঘটনার পরেই অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই বিজেপি ইডিকে ব্যবহার করে ভোটের রণকৌশল, প্রার্থী তালিকা চুরি করছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা ঘটনার জল গড়ায় কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত। ইডি অভিযানকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন জানায় তৃণমূল।
পালটা তদন্তে বাধার অভিযোগ নিয়ে হাই কোর্টে যায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও। ঘটনায় সিবিআই তদন্ত জানিয়ে মামলা দায়ের হয়। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে দুটি মামলার শুনানির জন্য ওঠে। কিন্তু তুমুল বিশৃঙ্খলায় তা ভেস্তে যায়। আগামী ১৪ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি হবে বলে জানায় হাই কোর্ট। এরপরেই প্রধান বিচারপতির এজলাসে দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে ইমেইল করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এমনকী পৃথক বেঞ্চ তৈরি করারও আবেদন জানানো হয়। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। স্পষ্ট জানানো হয়, আগামী ১৪ জানুয়ারিই ইডি মামলার শুনানি হবে। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা হবে বলে শোনা যাচ্ছে। সোমবারই এই সংক্রান্ত মামলা ফাইল করা হতে পারে বলেও খবর। কিন্তু একতরফাভাবে যাতে শুনানি না হয় সেজন্য আগেভাগে রাজ্যের তরফে ক্যাভিয়েট দাখিল করা হয়েছে।