‘সেকুলারিজমের ঠিকাদারদের মুখে ফেভিকল’, বাংলাদেশে হিন্দু নিধন নিয়ে প্রয়াগরাজে তোপ যোগীর
প্রতিদিন | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
হেমন্ত মৈথিল, লখনউ: বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং দেশের তথাকথিত ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শিবিরের নীরবতা নিয়ে চড়া সুরে আক্রমণ শানালেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শনিবার প্রয়াগরাজের মাঘ মেলায় জগৎগুরু রামানন্দাচার্যের ৭২৬তম জন্মোৎসব অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হওয়া অত্যাচার নিয়ে যাঁরা চুপ করে আছেন, তাঁদের মুখে ‘ফেভিকল এবং টেপ’ লেগেছে।
এ দিন গোরক্ষপীঠাধীশ মহন্ত যোগী আদিত্যনাথ সরাসরি তোপ দাগেন বিরোধীদের দিকে। তাঁর কথায়, “যাঁরা নিজেদের সেকুলারিজমের ঠিকাদার মনে করেন, বাংলাদেশে হিন্দু নিধন নিয়ে তাঁদের কোনও মোমবাতি মিছিল দেখা যায় না। তাঁদের আসলে হিন্দু সমাজকে ভাঙার এবং সনাতন ধর্মকে দুর্বল করার মতো যথেচ্ছ শক্তি রয়েছে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার সাহস নেই।” যোগীর হুঁশিয়ারি, বিভাজন এবং তুষ্টিকরণের এই রাজনীতিই বিনাশের কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ আজ যে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা ভারতের জন্য একটি চরম সতর্কবার্তা।
মাঘ মেলার পবিত্র ত্রিবেণী সঙ্গমে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিভেদকামীদের থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “জাতপাত বা ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন আমাদের অস্তিত্বকে বিপন্ন করবে। যখন এঁরা ক্ষমতায় থাকেন, তখন পরিবারের বাইরে কিছু ভাবতে পারেন না।” ডবল ইঞ্জিন সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদির হাত ধরে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের মাধ্যমে সনাতন ধর্মের জয়গান বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে যোগী বলেন, ৭২৬ বছর আগে জগৎগুরু রামানন্দাচার্যও এ ভাবেই সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। কবীর দাস থেকে শুরু করে রবিদাসের মতো সন্তদের এক সূত্রে গেঁথেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী সন্তদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, দারাগঞ্জে রামানন্দাচার্যের জন্মস্থানে একটি স্মারক মন্দির গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী স্বতন্ত্র দেব সিং, নন্দগোপাল গুপ্ত নন্দী এবং বহু সাধু-সন্ত। ভাষণের শেষে যোগী স্পষ্ট করে বলেন, হিন্দু সমাজ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবেই তারা সুরক্ষিত থাকবে। অন্যথায় বাংলাদেশের উদাহরণ চোখের সামনেই রয়েছে।