ছাব্বিশের আগে হাওয়া বদল বাঁকুড়ায়! অভিষেকের সভায় দলবদল ২ বিজেপি নেতার
প্রতিদিন | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রতি নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক দলগুলির নজর থাকে জঙ্গলমহলে। সেখানে তৃণমূল-বিজেপির বরাবর কড়া টক্কর। বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো জেলায় ঘাসফুলের দাপটের মাঝেও গেরুয়া ঝড় ভালোই। গত লোকসভা, বিধানসভা ভোটে জঙ্গলমহলের এসব জেলায় বিজেপি আসনপ্রাপ্তিতে তৃণমূলের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে ছিল। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেখানকার হাওয়া ঘুরছে! শনিবার বাঁকুড়া শালতোড়ায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় তৃণমূলে যোগ দিলেন সেখানকার ২ বিজেপি নেতা। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে আসন্ন বিধানসভা ভোটে বাঁকুড়াকে ১২-০ করার ডাক দিলেন অভিষেক। এই মুহূর্তে বাঁকুড়ার ১২ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি তৃণমূলের, বাকি সাতটিই বিজেপির দখলে।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচির আওতায় জেলায় জেলায় রণসংকল্প সভা করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বাঁকুড়ার শালতোড়ায় তাঁর জনসভা ছিল। সেখানেই দেখা গেল, অভিষেকের হাত ধরে বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফিরলেন প্রাক্তন ব্লক সভাপতি কালীপদ রায়। তুলে নিলেন দলীয় পতাকা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর শাসক শিবিরে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।একইসঙ্গে এদিন তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে দলে যোগ দিতে দেখা যায় বাঁকুড়া পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল কাউন্সিলর দিলীপ আগরওয়ালকে। সরাসরি তাঁদের নিয়ে না বলেলও জনসভায় অভিষেকের বক্তব্য, “কোনও ভদ্রলোক, ভালো লোক, শিক্ষিত লোক, মার্জিত লোক, সভ্য লোক বিজেপি করে না।”
বাঁকুড়ায় এবার পদ্মবন সাফ করে ফের ঘাসফুলের জোয়ার আনার লক্ষ্যে জোরদার লড়াইয়ের কথা বললেন অভিষেক। তাঁর কথায়, “২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে বাঁকুড়ার ১২টি আসনের মধ্যে চারটিতে আপনারা তৃণমূলকে জিতিয়েছিলেন। বাকি আটটিতে জিতেছিল বিজেপির প্রতিনিধিরা। ২০২৪ সালের লোকসভায় চার থেকে বেড়ে আমাদের ছয় হয়েছে। এখন তৃণমূল ছয়, বিজেপি ছয়। বাঁকুড়াকেও ছয় মারতে হবে। দু’টো ছয় মেরে তৃণমূলের পক্ষে ১২-০ করতে হবে। তৃণমূল জিতলে অধিকার পাবেন। বিজেপি জিতলে অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। তৃণমূল জিতলে দু’মুঠো ভাত। বিজেপি জিতলে সাম্প্রদায়িক সংঘাত।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মঞ্চে জোড়া যোগদান ঘিরে শালতোড়া-সহ গোটা বাঁকুড়া জেলায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। যদিও দলবদল নিয়ে প্রকাশ্যে এখনও মুখ খোলেননি কেউ। তবে জনসভা শেষ হতেই এলাকায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা, এই যোগদান যে আগামী দিনে জেলা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে, তা বলছেন অনেকেই।