• ‘বদল আগেই হয়েছে, এবার বদলা হবে’, বারাবনিতে তৃণমূল বিধায়কের হুমকিতে বিতর্ক এলাকায়
    প্রতিদিন | ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • শেখর চন্দ্র, আসানসোল: “দিদি বলেছিলেন, বদলা নয়, বদল চাই। কিন্তু এখন আমি অন দ্য ক্যামেরা বলছি, সরকার তো আসবেই। বদল তো আগেই হয়েছে, এবার বদলা হবে।” বারাবনির তৃণমূল বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়ের হুমকিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের পাল্টা সভা করেন বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়। সেখান থেকেই বিরোধীদের উপর বদলা নেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

    বুধবার বারাবনিতে পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা ও সভা ছিল সুকান্ত মজুমদারের। ওই সভা থেকে সুকান্ত মজুমদার-সহ বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেন বারাবনিতে সন্ত্রাসের বাতাবরণ রয়েছে। এখানে বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় ও ব্লক সভাপতি অসিত সিং সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করে রেখেছে। উন্নয়নের নামে ওরা দুর্নীতি করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপি অভিযোগ করে, ওই সভা করতে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। ফ্ল্যাগ ফেস্টুন বাঁধতে গিয়ে আক্রান্ত হল বিজেপি কর্মীরা। শুধু তাই নয়, সুকান্ত মজুমদারের সভার পর বাইরে থেকে আসা ডেকোরেটার্স কর্মী ও মাইকম্যানদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

    বারাবনি বিধানসভার পানুরিয়াতে শুক্রবার বিকেলে পালটা সভা হয় তৃণমূলের। বিধান উপাধ্যায় প্রথমে তৃণমূলের সভা থেকে বলেন, “সিপিএম-এর সময় প্রতিদিন প্রতি জায়গায় মার খেতে হতো। বারাবনিতে এখন যারা সন্ত্রাস বলে মিথ্যা অভিযোগ করছে। কোথায় তারা সন্ত্রাস দেখেছে? যারা এখন বলে বেড়াচ্ছে, তারা সিপিএম-এর টাইমে সব খালে বিলে ঢুকেছিলো।” বিধানের হুমকি, “মনে রাখবে বারাবনিতে এতদিন শান্তিতে আছো। শান্তিতে সব মানুষ আছে। যেদিন বদলা নেবো, সেদিন তোমাদের কেউ খুঁজেই পাবে না।”

    বিধান উপাধ্যায়ের প্রয়াত বাবা মানিক উপাধ্যায় প্রথমে কংগ্রেসের এবং পরে তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন। সেই প্রয়াত বাবার নাম নিয়ে বিধান বলেন, “রক্তটা মানিক উপাধ্যায়ের আছে। হাসিমুখটা সবসময় আছে, হাসিমুখে থাকি। কারণ আমি একটা মতে চলি যে মানুষকে ভয় দেখানো নয়, অস্ত্র দেখানো নয়। মানুষকে যদি ভালোবাসা দিয়ে কাছে টানতে পারো তাহলে তুমি সারাজীবন মানুষের সঙ্গে থাকবে।”

    বিতর্কিত এই বক্তব্যে অনড় বিধান উপাধ্যায় শনিবার বলেন, “দেখুন শান্তিতে থাকা সত্ত্বেও যদি বারবার বলতে থাকে এখানে অশান্তির পরিবেশ রয়েছে। তো অশান্তি কাকে বলে সেটা কিন্তু ওদেরকে দেখানো উচিত।” তাঁর দাবি, “নেত্রীর স্লোগান ছিল বদলা নয় বদল চাই। কিন্তু সেই সুযোগ নিয়ে চারিদিকে ওরা ঘুরে বেড়াচ্ছে আর বিভিন্নভাবে মানুষের শান্তি নষ্ট করতে চাইছে। এটা বারবার করতে চাইলে নিশ্চিতভাবে আগামী দিনে বদলা হবে।”

    এরপরে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “উনি নতুন কী বক্তব্য দিচ্ছেন? বারাবনির ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীরা ইতিমধ্যেই ওনার বদলার রাজনীতির বিরুদ্ধে রাজনীতি করে। ২০২১ সালেও ছিল। এবং তাদের বুকে দম আছে বলেই তারা রাজনীতিটা করে। আর ওইসব বদলার ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। বিজেপি প্রস্তুত আছে তা ওদের গড়ে পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা ও সভা করে বিজেপি দেখিয়ে দিয়েছে।

    বিজেপির অভিযোগ, “২০২১ সালে জেতার পর কি বদলা নেননি? ২০২১ সালে জেতার পর বারাবনির বুকে যে সন্ত্রাস উনি করেছেন, সেটা কি উনি ভুলে গেছেন? ২০২১ সালের ভোটের পরে বিজেপি কর্মীদের ঘরছাড়া করা হয়। মারধর করে করে টাকা আদায় করেছেন ওনারা। এবার ভোটে ওনারা জবাব পাবেন।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)