নব্যেন্দু হাজরা: মাঝে মাত্র পাঁচদিনের ব্যবধান। আবারও এসআইআরের শুনানি পর্বের ত্রুটির অভিযোগ টেনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার মহম্মদ শামি, বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামীকে শুনানির নোটিস পাঠানোকে কমিশনের অমানবিক, অসংবেদনশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেকথা স্পষ্ট করে জানিয়েই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, যে পদ্ধতিতে শুনানি চলছে, তা ত্রুটিযুক্ত। অবিলম্বে এই পদ্ধতি বন্ধ হোক। যদিও চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতে লিখেছেন, ”জানি আপনি হয়তো চিঠির জবাব দেবেন না। কিন্তু আপনাকে বিস্তারিত সব জানানো আমার কর্তব্য।”
চিঠির শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যে পদ্ধতিতে এসআইআরের কাজ করছে নির্বাচন কমিশন, তাতে তিনি স্মম্ভিত এবং বিরক্ত। শুনানির বিষয়টি চলছে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর এবং তথ্যগত ত্রুটির ভিত্তিতে। সাধারণ বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে খতিয়ে দেখার কাজ মোটেই হচ্ছে না। আর সেই কারণেই অমর্ত্য সেন, জয় গোস্বামী কিংবা মহম্মদ শামিদের মতো সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। এসব মোটেই কাম্য নয় বলে চিঠিতে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এটা অসংবেদনশীল এবং বাস্তব সম্পর্কে অনভিজ্ঞতার ফল। কমিশনের এসব কাজ গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এমনকী সামান্য বানানের হেরফেরেও যে কমিশন থেকে ভোটারদের নথি তলব করে শুনানিকেন্দ্রে ডেকে পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়েও আপত্তি তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি নিজের নামের বানান দিয়ে উদাহরণও দিয়েছেন। Mamata-র বানান কোনওভাবে Mamta লেখা হয়ে যেতেই পারে। তাতে ওই ভোটার যে অন্য কেউ, এই সন্দেহের অবকাশ খুবই কম বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া বয়স্ক মানুষদের শুনানিকেন্দ্রে তলব নিয়েও বেশ আপত্তি তুলেছেন তিনি। চারপাতার চিঠির ছত্রে ছত্রে গোটা পদ্ধতির বিরোধিতায় যুক্তি সাজিয়েছেন। শেষে স্বহস্তে লেখা, জনতার সমস্যার কথা সবিস্তারে নির্বাচন কমিশনকে জানানো তাঁর কর্তব্য, সেই কারণে এই চিঠি।