SIR-এর শুনানিতে হয়রান হতে হচ্ছে মানুষকে। ইতিমধ্যেই SIR-এর জন্য রাজ্যের ৭৭ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, ৪ জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, ১৭ জন অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন— ফের একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
চিঠিতে মমতা অভিযোগ করেছেন, বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে অনেক মহিলা নিজের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে থাকছেন। সেই ক্ষেত্রে ওই মহিলার পদবি, ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে। তাঁদের শুনানিতে কেন ডাকা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। মমতা বলেন, ‘এই কর্মকাণ্ড দেখে বোঝা যাচ্ছে, শুধুমাত্র সামাজিক সংবেদনশীলতার অভাব নয়, যোগ্য মহিলা ভোটারদের এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপমান করা হচ্ছে।’
SIR-এর কাজ খতিয়ে দেখার জন্যে রাজ্যে পর্যবেক্ষকদের নিযুক্ত করা হয়েছে। মমতার অভিযোগ, ভোটার তালিকার সংশোধনের মতো একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই পর্যবেক্ষকদের নিয়োগ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ভোটারদের মৌখিক ভাবে হেনস্থা করছেন পর্যবেক্ষকরা বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি’ নিয়ে বারবার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দশ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে সেই সংক্রান্ত অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন। তথ্যগত অসঙ্গতি থাকার জন্যে প্রায় এক কোটি ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে।
মমতা চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, নাম, ঠিকানা বা বয়সজনিত ত্রুটি থাকলেই তাঁদের শুনানিতে ডেকে হেনস্থা করা হচ্ছে। মমতা উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘কোনও একটি নথিতে এক ভোটারের নাম রয়েছে ‘Mamta’ আবার কোনও নথিতে সেই ভোটারের নাম রয়েছে ‘Mamata’, কোনও ভোটারের ‘Middle Name’ রয়েছে ‘Kumar’, আবার কোনও নথিতে রয়েছে “komar’ বা ‘Kumer’। অনেক ভোটারের মা-বাবার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য রয়েছে ১৮ থেকে ১৯ বছর, তাঁদেরকেও শুনানিতে হাজির করানো হচ্ছে। এই ধরনের তুচ্ছ ত্রুটির কারণে একজনকে হেনস্তা করায় অনেকে দৈনিক উপার্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর দায় কে নেবে?’
এর পাশাপাশি অনেক বিশিষ্টজনকে হিয়ারিং-এ ডেকে তাঁদের সম্মানহানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা। উদাহরণ হিসেবে নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন থেকে শুরু করে কবি জয় গোস্বামী, অভিনেতা দেব-কে হিয়ারিং-এ ডাকার বিষয়টি তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
পড়াশোনা বা কর্মসূত্রে বিদেশে থাকা ভোটারদের জন্য সম্প্রতি কমিশন নতুন নিয়মের কথা জানিয়েছে। শুনানিতে ভোটারের হাজির বাধ্যতামূলক না করে তাঁদের নিকট আত্মীয় শুনানিতে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে কমিশন। তবে ভিন রাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তা নিয়েও সরব হয়েছেন মমতা।
মমতা চিঠিতে লেখেন, ‘এই ধরনের ঘটনা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ভোটার তালিকা সংশোধন বা ভোটারদের তালিকা যুক্ত করার জন্যে নয় বরং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এটা করা হচ্ছে।’ চিঠির শেষে একটি নোট-এ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে খোঁচা দিয়ে মমতা লেখেন, ‘যদিও আমি জানি আপনি এই চিঠির উত্তর দেবেন না, তবে আমার কর্তব্য ছিল এই বিষয়গুলি আপনাকে জানানোর।’