• হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত, মুম্বইয়ে খুন পরিযায়ী শ্রমিক
    এই সময় | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, রানিতলা: রাজমিস্ত্রির কাজে মুম্বই গিয়েছিলেন বাংলার শ্রমিক রিন্টু শেখ (৩২)। মুর্শিদাবাদের রানিতলা থানার হাজিডাঙা গ্রামের যুবক রিন্টুকে সেখানেই খুন করার অভিযোগ উঠল তাঁরই এক সঙ্গী ও বিহারের বাসিন্দা রাজেন পাটিলের বিরুদ্ধে।

    জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ পেশায় রাজমিস্ত্রি রাজেনের সঙ্গে কিছু একটা নিয়ে তর্কাতর্কি হয় রানিতলার যুবকের। এর পরে রাজেন তাঁর ঘরে চলে যান। রিন্টুও নিজের ঘরের দরজা লাগিয়ে শুয়ে পড়েছিলেন। রাজেন আবার এসে দরজা খোলার কথা বলেন, যাতে রিন্টু রাজি হননি। অভিযোগ, তখন বাইরে দাঁড়িয়ে রিন্টুকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন রাজেন। রাগের মাথায় রিন্টু দরজা খুলতেই তাঁর মাথায় আচমকা বাঁশ দিয়ে আঘাত করেন অভিযুক্ত। রিন্টু ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।

    অভিযোগ, এর পরে হাতুড়ি দিয়ে তাঁর মাথায় জোরালো আঘাত করেন রাজেন। ভোর তিনটে নাগাদ পুলিশ রিন্টুকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসক বাংলার শ্রমজীবীকে মৃত বলে জানান। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ রাজেনকে গ্রেপ্তার করেছে। খুনের ধারায় মামলা রুজু করে শুরু হয়েছে তদন্ত।

    স্থানীয় সূত্রের খবর, সাত মাস আগে রিন্টু স্ত্রী ও দেড় বছরের শিশু সন্তানকে রেখে মুম্বইয়ের রায়গড জেলার পানভাল থানার উলওয়ে সেক্টর ২৮-এ কাজে গিয়েছিলেন। স্ত্রী বেবি খাতুন বলেন, ‘সন্ধে ৭.৩০ নাগাদ আমার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। বাড়ির সকলের খোঁজ নেয়। মেয়ে ঠিক আছে কি না তাও জানতে চায়। এর পরে রাত ১২.৩০ নাগাদ ওর মৃত্যুর খবর পাই।’ উলওয়ায় হাজিডাঙা গ্রামের ৫০ জনের বেশি রাজমিস্ত্রি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন কলিমুদ্দিন শেখ বলেন, ‘রিন্টু যে বিল্ডিংয়ে কাজ করছে, সেখান থেকে কিছুটা দূরে কাজ করছি আমি। শুনেছি রাতে গল্প করার সময়ে কোনও একটা বিষয় নিয়ে রাজেনের সঙ্গে রিন্টুর তর্ক হয়েছিল। কিন্তু কী নিয়ে, তা জানি না।’

    ওই বিল্ডিংয়ের ঠিকাদার উত্তরপ্রদেশের আমজাদ খান জানান, উলওয়া পুলিশ চৌকিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। শনিবার ময়নাতদন্ত হয়েছে। যুবকের দেহ বাড়ি পাঠানোর ব্যাপারে বিল্ডার্স-এর সঙ্গে কথা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও তিনি সম্মতি দিয়েছেন। হাজিডাঙা পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সেলিম আলি বলেন, ‘রিন্টু পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে ওর পরিবার ভেসে যাবে। সরকারের কাছে আবেদন করছি, ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।’

  • Link to this news (এই সময়)