• 'চরম আতঙ্কের', ফের জ্ঞানেশকে চিঠি দিলেন মমতা
    আজকাল | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরও একবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ ভোটার তালিকা সংশোধনে কমিশনের পদক্ষেপ পক্ষপাতদুষ্ট। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার মহম্মদ শামি, বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামীকে শুনানির নোটিস পাঠানোকে কমিশনের 'অমানবিক, অসংবেদনশীল' পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী। যা তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। 

    ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া 'অপরিকল্পিত, জবরদস্তিমূলক প্রক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট ভয়, আতঙ্ক এবং উদ্বেগের সঙ্গে সম্পর্কিত।' বলেও চিঠিতে অভিযোগ করেছেন মমতা ব্যানার্জি। তিন পাতার চিঠিতে এসআইআর আতঙ্কে রাজ্যে মৃত্যু, আত্মহত্যার পরিসংখ্যান-সহ নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। চিঠির শেষে হাতে লেখা রয়েছে, 'জানি আপনি হয়তো চিঠির জবাব দেবেন না। কিন্তু আপনাকে বিস্তারিত সব জানানো আমার কর্তব্য।'

    চিঠিতে কী লেখা আছে?

    সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা তাঁর চিঠিটি পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্য়ানার্জি। সেখানে লেখা রয়েছে...

    'আজ আমি ক্ষোভ থেকে, দায়িত্ববোধ থেকে এবং গণতন্ত্রের প্রতি আমার অবিচল অঙ্গীকার থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে একটি বিস্তারিত চিঠি লিখেছি। এসআইআর-এর আড়ালে বাংলায় যা ঘটছে, তা সাধারণ নাগরিকদের মর্যাদা, জীবিকা এবং সাংবিধানিক অধিকারের উপর একটি উদ্বেগজনক আক্রমণ।

    যে প্রক্রিয়াটি অন্তর্ভুক্তির জন্য তৈরি হয়েছিল, তা এখন ভয় দেখানো এবং বাদ দেওয়ার একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। শুনানিগুলো যান্ত্রিকভাবে, সহানুভূতি ছাড়া, বিচার-বিবেচনা ছাড়া এবং মানবিক বাস্তবতার প্রতি কোনও সংবেদনশীলতা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। এর পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ, ৭৭ জনের মৃত্যু, আত্মহত্যার চেষ্টা, হাসপাতালে ভর্তি—সবকিছুই একটি অপরিকল্পিত, জবরদস্তিমূলক প্রক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট ভয়, আতঙ্ক এবং উদ্বেগের সাথে সম্পর্কিত।

    যখন অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের মতো একজন নোবেল বিজয়ী, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়াবিদ, সন্ন্যাসী এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিজেদের ‘প্রমাণ’ করার জন্য তলব করা হয়, তখন তা চরম প্রাতিষ্ঠানিক ঔদ্ধত্যকেই প্রকাশ করে। যদি এমন বরেণ্য ব্যক্তিদেরও রেহাই না দেওয়া হয়, তবে দরিদ্রতম মানুষ, বয়স্ক ব্যক্তি, পরিযায়ী শ্রমিক, দিনমজুর এবং বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করা মহিলাদের দুর্দশার কথা ভাবুন।

    মনে হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক ভূমিকা থেকে বিপজ্জনকভাবে সরে যাচ্ছে। কিন্তু গণতন্ত্র ভয় দিয়ে টিকে থাকে না। জবরদস্তি করে ভোটার তালিকা শুদ্ধ করা যায় না। আর সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ জবাবদিহিহীন প্রভুর মতো আচরণ করে সম্মান অর্জন করতে পারে না। আমি এই উদ্বেগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সামনে তুলে ধরেছি। এখনও পথ সংশোধনের জন্য খুব বেশি দেরি হয়ে যায়নি। আমি আশা করি শুভবুদ্ধির উদয় হবে। আমি আশা করি নাগরিকদের যন্ত্রণার অবসান হবে। এবং আমি আশা করি অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আগেই আমাদের গণতন্ত্রের পবিত্রতা পুনরুদ্ধার করা হবে।'

    এই প্রথমবার নয়। এর আগেও এসআইআর সংক্রান্ত নানা ত্রুটির কথা তুলে ধরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। মমতা ব্য়ানার্জির দাবি, কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসলে কেন্দ্রীয় শাসক দল বিজেপি-কে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
  • Link to this news (আজকাল)