‘কোচবিহারে সব আসন জিতবে বিজেপি’, তৃণমূলকে বাংলা ছাড়া করার হুঁশিয়ারি দিলীপের
আজ তক | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। আর এরই মাঝে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার I-PAC কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালানোর সময় সেখানে পৌঁছে বাধা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। আর ভোটের আগে তৃণমূলকে বাংলা থেকে বিদায়ের ডাক দিলীপ ঘোষের। তিনি জানিয়েছেন, বিজেপি এরকম অনেক বড় বড় কেল্লাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর মনে হয় নতুন ভারত গড়ার জন্য এটা পশ্চিমবঙ্গে শেষ লড়াই হবে।
প্রসঙ্গত, I-PAC কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকের অফিসে বৃহস্পতিবার তল্লাশি চালায় ইডি। আর তল্লাশি চলার সময় সেখানে পৌঁছে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির তদন্তে বাধা দেন মুখ্যমন্ত্রী, এমনটাই দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্টের। শুক্রবার কোচবিহারে সভা করেন বিজেপির দাবাং নেতা দিলীপ ঘোষ। দলে ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পরই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সভা করে বেড়াচ্ছেন তিনি। শনিবার কোচবিহারে প্রাত্য ভ্রমণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি দিলীপ ঘোষ বলেন, কোচবিহারের ভালো-মন্দের সঙ্গে এখানকার মানুষের ভাগ্য জড়িয়ে আছে। আমরা সব কটা আসনেই জিতব। আপনারা খুবই কষ্টে আছেন। কষ্টে শুধু আপনারা নন, গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষই আছে। তাঁরাই পরিবর্তন করবে। বিজেপি এরকম অনেক বড় বড় কেল্লাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আমার মনে হয় নতুন ভারত গড়ার জন্য এটা পশ্চিমবঙ্গে শেষ লড়াই হবে।
শুক্রবার কোচবিহার জেলার গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে আয়োজিত পরিবর্তন সংকল্প সভার আয়োজন করে বিজেপি। আর সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিজেপির দাবাং নেতা দিলীপ ঘোষ। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে দিলীপ বলেন, নরেন্দ্র মোদী যে টাকা পাঠিয়েছেন সব টাকা লুঠ হয়ে গেছে। মোদীজি বলেছেন অনেক হয়েছে, আর নয়। ইডি নেতার বাড়ি থেকে এখন I-PAC-এর অফিসে পৌঁছে গেছে। যেখান থেকে টাকা বন্টন করা হয়। এই I-PAC-এর লোকেরা আমাদের নেতাদের তৃণমূলে জয়েন করার জন্য ফোন করত।
এরপরই দিলীপ ঘোষ বলেন, যাঁরা বাংলাদেশ থেকে ভোটার হয়েছে তাঁদের নাম একটাও থাকবে না। সবকটার নাম কাটা যাবে। ভয় করবেন না। এক একটা বিধানসভায় ৩০-৫০ হাজার নাম বাদ যাবে। ভুয়ো ভোটে জিততে পারবে না। তাই এবারের নির্বাচনে যাঁরা আমাদের সমর্থক, গ্রামে-গঞ্জের মানুষ অত্যাচার সহ্য করে বিজেপি করছেন, তাঁদেরকে বলুন এবারের নির্বাচনে আর একবার ভোটটা ভালো করে দিতে হবে। দরকার পড়লে আমরা সেন্ট্রাল ফোর্স বুথের ভিতরে রাখবো। কেউ চমকাতে পারবে না। কোচবিহার থেকে আটটা বিধায়ক দিন, কলকাতাতে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হবে। আমরা ক্ষমতায় এলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা দিচ্ছেন তার থেকে বেশি দেব।
দিলীপ আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে সকাল থেকে দৌড়তে দেখেছেন তো? এবার অলিম্পিকের দৌড় হবে। ভাইপো দিল্লিতে আর দিদি কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ দৌড়াচ্ছে। আবার হাতে ফাইল নিয়ে। পশ্চিমবঙ্গে চাল, রেশন, একশো দিনের টাকা চোর দেখেছি, এই প্রথমবার ফাইল চোর দেখলাম। তাঁর একটা ছোট ভাই আছে রাজীব কুমার, তাঁর বাড়িতে CBI-এর লোকেরা গিয়েছিল। সেটা শুনে উনি দৌড়ে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন। একজন পুলিশ অফিসারের জন্য 5 ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করে বসেছিলেন। ইডির কাছ থেকে উনি ফাইল নিয়ে চলে এলেন, কিন্তু কাউকে বাঁচাতে পারবেন না।