পার্থ চৌধুরী: শীতের দিনে ভরদুপুরে রাজপথে দাঁড়িয়ে পাবলিককে টুপি পরাল পুলিস। ট্রাফিক পুলিসের এই কাজ দেখতে ভিড় জমে গেল জি টি রোডে। অম্লানবদনে পুলিসের দেওয়া টুপি পরে জনতা জানাল,'এই উদ্যোগ খুব ভাল।' অবশ্য, 'এই টুপি নয়কো সেই টুপি। যে টুপি পড়ে ওরা করে বড়াই।'এই টুপি পরাচ্ছে ট্রাফিক পুলিস। ট্রাফিক ওসি চিন্ময় ব্যানার্জি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে জনগণের কাছে টুপি পরবার আবেদন জানাচ্ছেন।
মজার বিষয় হল পথচলতি সাধারণ মানুষকে গলা বাড়িয়ে এই টুপি পরতে হচ্ছে। কারণ, এই টুপি গলাতেই পরতে হয়। পোশাকি নাম 'নেক শিল্ড।'পাতলা কাপড়ের এই আবরণ অনেকটা ফুটপাতে বিক্রি হওয়া পাতলা কাপড়ের টুপির মতই। চায়না মাঞ্জার দাপট থেকে জনতার গলা বাঁচাতে এই উদ্যোগ।
চায়না মাঞ্জার এই দাপটে চিন বা তার চেয়ারম্যান কোনও হাত নেই। গত কয়েকবছর এই রাজ্যে ঘুড়ি ওড়ানোর কাজে দেশি মাঞ্জাকে রিপ্লেস করে এই মাঞ্জা একচেটিয়া হয়ে উঠেছে। এই মাঞ্জা খুব বিপজ্জনক। যেমন ধারালো,তেমনই শক্ত। এই মাঞ্জা গলায়, হাতে বা পায়ে লেগে অসংখ্য মানুষ আহত হন ভয়ানকভাবে। মারাও গেছেন কয়েক বছর আগে। এই বিপদ কিন্তু ছোটখাটো নয়। বিশেষত বাইক আরোহীদের বিপদ আরোও বেশি। তাই জনতাকে সচেতন করতে এই উদ্যোগ ট্রাফিক পুলিস নিয়েছে। আরো বিপদের কথা এইসময় বর্ধমানে ঘুড়ি মেলার মরশুম। চারদিকে ঘুড়ি উড়বে আর কদিনের মধ্যেই। তাই মোক্ষম সময়ে পথে নেমেছেন পুলিস কর্মীরা।
এই টুপি কিন্তু কিনতে হবে না। একেবারে বিনি পয়সায় গোটা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় চিন্ময়বাবু এবং তার সহকর্মীরা দিনভর এই টুপি পরিয়ে দিলেন।
চিন্ময় ব্যানার্জি জানাচ্ছেন, চায়না মাঞ্জার বিপদ খুব বেশি। এই নিয়ে পুলিসের সঙ্গে তারাও অভিযান করেন। কিন্তু এবারে পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতে,সতর্ক করতে জেলা পুলিস সুপারের নির্দেশে এই কাজ করছে ট্রাফিক পুলিস।
চিন্ময়বাবু দাবাং অফিসার হিসেবে পরিচিত। পুরনো, ঘিঞ্জি শহরে বেসামাল যান শাসনে লাঠি হাতে আর মাথায় টুপি পরে সারাদিন তাকে দেখা যায় মোড়ে মোড়ে। নানান কর্মকান্ডে এমনিতেই তিনি শহরে পরিচিত।
আজ পুলিশের এই কাজ দুহাত তুলে এবং গলা তুলেই সমর্থন করছেন পথচারীরা। এখন দেখার, এই নেকশিল্ড কতটা বাঁচাতে পারে 'চায়না'-রা আগ্রাসন থেকে।