প্রবীর চক্রবর্তী: এসআইআর নিয়ে কেন্দ্র রাজ্য সংঘাত চরমে। এবার ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে, তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দরজায় কড়া নাড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মাইক্রো অবজার্ভারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কমিশনের মাইক্রো অবজার্ভাররা সাধারণ মানুষকে রীতিমতে হররান করে বেড়াচ্ছেন। মাইক্রো অবজার্ভারদের নিরাপত্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন গঙ্গাসগর মেলার ডিউটি-র মধ্য কীভাবে রাজ্য পুলিস নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে! এসআইআর-এ বহু মানুষকে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির জন্য শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এই বিষয়টিকেই মমতা বলছেন একেবারেই ইল-লজিক্যাল। এভাবেই সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি অমর্ত্য সেনের মতো মানুষকেও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এর পাশাপাশি, অভিনেতা দেব থেকে শুরু করে ক্রিকেটার মহম্মদ সামিকে হেয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, মানুষের জন্য উদ্বেগ ও নিজের দায়িত্ব থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখছি। এসআইআরের নামে যা হচ্ছে তা মানুষের আত্মসম্মান, জীবন ও তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার উপরে আঘাত। যে প্রক্রিয়াটিতে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল, সেটি এখন ভয় দেখানো এবং বাদ দেওয়ার একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। কোনো ধরনের সহানুভূতি বা বিচার-বুদ্ধি ছাড়াই যান্ত্রিকভাবে শুনানি চালানো হচ্ছে। এর ফলাফল হয়েছে ভয়াবহ। ভয় ও আতঙ্কে এখনও পর্যন্ত ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে,অনেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এবং অনেককে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। একটি অপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
যখন অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের মতো নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক আইকন, ক্রীড়াবিদ, সন্ন্যাসী এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও নিজেদের পরিচয় 'প্রমাণ' করার জন্য তলব করা হয়, তখন তা প্রতিষ্ঠানের চরম অহংকারকেই প্রকাশ করে। যদি এই মাপের মানুষেরাই রেহাই না পান, তবে দরিদ্র মানুষ, বৃদ্ধ, অভিবাসী শ্রমিক, দিনমজুর এবং বিয়ের পর পদবি বদলে ফেলা নারীদের অবস্থা কী হতে পারে, তা সহজেই কল্পনা করা যায়। মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে সরে গিয়েছে। কিন্তু ভয় দেখিয়ে গণতন্ত্র টিকে থাকে না। জোর করে ভোটার তালিকা শুদ্ধ করা যায় না। আর জবাবদিহিহীন শাসকের মতো আচরণ করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মান পায় না। আমি আমার এই উদ্বেগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে জানিয়েছি। এখনও সময় আছে ভুল সংশোধনের। আমি আশা করি শুভবুদ্ধির উদয় হবে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ শেষ হবে এবং বড় কোনো ক্ষতি হওয়ার আগেই আমাদের গণতন্ত্রের পবিত্রতা ফিরে আসবে। জানি আপনি কোনও জাবাব দেবেন না। কিন্তু আপনাকে জানানো আপনার ডিউটি।
মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি নিয়ে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, গলায় যখন কাঁটা ফোটে তখন সেই কাঁটা বের করার জন্য মানুষ পাগল হয়ে যায়। তণমূলের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এসআইআর। বিহারে যখন এসআইআর চলছিল তখন থেকে উনি চিত্কার করে যাচ্ছেন। ফলে তিনি যে শেষপর্যন্ত চিত্কার করবেন সেটাই তো স্বাভাবিক। কারণ উনি ওঁর বিনাশ দেখতে পারছেন। তাই ওঁর চিত্কার বাড়ছে, চিঠি চাপাটি দিচ্ছেন। ওতে কিছু হবে না। সাধারণ মানুষ জানে হেয়ারিংয়ে বহু ভুয়ো ভোটার বাদ যাবে। তাই মানুষ চাইছে এসআইআর। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন না এসআইআর।
আন্যদিকে, তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী বলেন, এসআইআরের আগে বলা হয়েছিল ১ কোটি ২০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানে ভরে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখনও বলতে পারল না এসআইআর-এ কতজন রোহিঙ্গা ধরা পড়ল। কিন্তু এর উল্টো দিকে আমরা দেখলাম একের পর এক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আজও শুনানি চলাকালে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিডিও নিজের গাড়ি করে তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছে দিলেও তাঁর মৃত্যু হয়। মানুষের সঙ্গে অসভ্যতা বিজেপির নির্দেশে কমিশন করছে। বাংলার মানুষকে রাজনৈতিকভাবে পারছে না। তাই এসব করছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী বারবার তাদের সতর্ক করছেন। যদি শোনে তো ভালো, নয়তো বাংলার মানুষ রাস্তায় বুঝে নেবে।