সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সুরাটের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ফায়ার স্টার ডায়মন্ড ইউনিটে আগুন। পলাতক নীরব মোদির সঙ্গে এই ইউনিটের যোগ রয়েছে। দুই দিনের টানা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সকলের মনে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। অনেকের মনে সন্দেহ এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আগুন লাগে ফায়ার স্টার ডায়মন্ডের নিচের তলায়। বহু বছর আগে সুরাটের শচীন রোডে অবস্থিত এই যায়গা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সিল করে দেয়। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছায় দমকল। কিন্তু দুর্ঘটনার একদিন পরে অর্থাৎ শুক্রবার ফের আগুন লাগে একই জায়গায়।
প্রায় ছয় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে জানা গিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় সবকিছু। দমকল বিভাগ জানিয়েছে, “ভেতরের সবকিছুই ছাই হয়ে গিয়েছে। এসি ইউনিট, কম্পিউটার, আসবাবপত্র, সেফ, মেশিন; কিছুই রক্ষা পায়নি। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে।” যদিও, এই ঘটনায় কোনও আহত বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার স্টার ডায়মন্ড বহু বছর আগে সিল করে দেয় ইডি। এই দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগ, জলের লাইন এবং ড্রেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপড়েই প্রশ্ন উঠছে, যেখানে বিদ্যুট সংযোগ নেই সেখানে আগুন কীকরে লাগতে পারে। তাঁর উপর পর পর দুই দিন আগুন লাগায় সন্দেহ দানা বাঁধছে সকলের মনে। এর পাশাপাশি, সংস্থার দরজা এবং জানালা ভাঙা ছিল বলেও জানা গিয়েছে।
এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘”এটি কোনও খোলা শিল্প এলাকা নয়। এখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ সিল করা কোনও জায়গায় ঢোকে, তাহলে এটি একটি গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ইঙ্গিত।”
পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু, সব নথিপত্র পুড়ে যাওয়া এবং প্রবেশপথ ভাঙা থাকার কারণে, ফায়ার স্টার ডায়মন্ডের অগ্নিকাণ্ড এখন আর সাধারণ কোনও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নয় বলেই সকলের ধারণা।