• নিম্নমানের খাবার, অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের শিশুদের পাতে নেই ডিম! দিদিমনিকে তালাবন্দি করে বিক্ষোভ
    প্রতিদিন | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • রাজা দাস, বালুরঘাট: অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রে শিশুদের খাবারের মেনুতে ডিম নেই! দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের পাতে ডিম দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। খাবার হিসেবে যে খিচুড়ি দেওয়া হয়, তাও মুখে তোলার অযোগ্য! এই অভিযোগ তুলে ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিক্ষোভ দেখানো হল। তালাবন্দি করে রাখা হয় ওই কেন্দ্রের দিদিমনি ভারতী রায়কে! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনে। পরে পুলিশ গিয়ে ওই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই শিক্ষিকাকেও উদ্ধার করা হয়।

    তপন ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধবপুর এলাকায় ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই কেন্দ্রটি সঠিক সময়ে খোলা হয় না। দিদিমনি ভারতী রায় নিজের ইচ্ছেমতো ওই কেন্দ্র খোলেন। প্রতিদিন সেটি খোলা হয় না বলেও অভিযোগ। ৩০ জন পড়ুয়া রয়েছে ওই কেন্দ্রে। নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শিশুদের পাতে ডিম দেওয়া হয় না! খিচুড়িতে শাকসবজিও দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ। ওই খাবারই শিশুদের দেওয়া হয়! তাঁদের পুষ্টির দিকে কোনও খেয়াল রাখা হয় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

    আজ, শনিবারও খাবারের পাতে ডিম ছিল না বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা, পড়ুয়াদের অভিভাবকরা ওই কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে ওই কেন্দ্রের মধ্যে তালাবন্দি করে রাখা হয়! কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে বিক্ষোভ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই দিদিমনি অনিয়মিত। শিশুদের খাবারে ডিম, শাকসবজি কিছু দেওয়া হয় না। সেজন্যই বাধ্য হয়ে এই বিক্ষোভ। ঘটনার কথা শুনে এলাকায় যান আইসিডিএস সুপারভাইজাররা। তপন থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়। অভিযুক্ত দিদিমণিকে অন্যত্র বদলি করা হবে বলেও আধিকারিকরা জানিয়েছেন। এরপরই বিক্ষোভকারীরা শান্ত হন। তালা খুলে শিক্ষিকাকে উদ্ধার করা হয়। তপন থানার আইসি জনমারী ভিয়ানে লেপচা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

    এদিকে সারা বাংলা অঙ্গনওয়াড়ি সমিতির নেত্রী লতা বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে মা ও শিশুর পুষ্টির জন্য প্রতিদিন অনেক ডিম প্রয়োজন। এখন প্রতিটি ডিমের দাম ৯ টাকা। এদিকে ডিম প্রতি বরাদ্দ ৬.৫০ পয়সা। ডিমপিছু আড়াই টাকা করে বেশি দিতে হচ্ছে। নিজেদের পকেট থেকেই ওই টাকা দেওয়া হচ্ছে। এই বাড়তি টাকা কে দেবে? সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)