• শুনানির লাইনে মৃত্যু প্রৌঢ়ের, ডিটেনশন ক্যাম্পের ভয়ে ‘আত্মঘাতী’ অশীতিপর, SIR যেন আতঙ্কের আরেক নাম 
    প্রতিদিন | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • জ্যোতি চক্রবর্তী, দেব গোস্বামী, বনগাঁ ও রামপুরহাট: এসআইআরের শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু রাজ্যের আরও এক বাসিন্দার। শনিবার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের রামপুরহাটে। মৃত ওই ব্যক্তির নাম কাঞ্চন কুমার মণ্ডল। তিনি রামপুরহাট পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। লাইনে দাঁড়িয়েই অসুস্থ বোধ করায় তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    রাজ্যজুড়ে এসআইআরে শুনানির কাজ চলছে। সেই মতো এদিন সকাল থেকে রামপুরহাট -১ ব্লক অফিসে শুনানির কাজ চলছিল। মানুষের লম্বা লাইন। সেই লাইনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন কাঞ্চন কুমার মণ্ডল। সেই সময় আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তড়িঘড়ি স্থানীয় মানুষজনই কাঞ্চনবাবুকে দ্রুত উদ্ধার করে রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ! কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কাঞ্চন কুমার মণ্ডলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের অনুমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।

    পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকে মানসিক চাপ ছিল। সেই চাপ থেকেই এই ঘটনা। অন্যদিকে এসআইআর ‘আতঙ্কে’ আরও এক মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। শুনানি থেকে ফিরেই শুক্রবার সকালে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এক ব্যক্তি। শুক্রবার রাতে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতাল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরজি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় ৷ মৃত ওই ব্যক্তির নাম বলাই দাস। বছর ৫০ এর ওই ব্যক্তির বাড়ি গোপালনগর থানার বেলেডাঙ্গা এলাকায় এক নম্বর বুথে ৷

    পরিবারের অভিযোগ, এসআই আর শুনানি থেকে ফিরে আতঙ্কেই তিনি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন বলাই দাস। মৃত্যুর ঘটনার পর শনিবার বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস তার বাড়িতে যান। বিশ্বজিৎ বাবু বলেন, ‘ভেবে ছিলেন তাঁকে হয়তো আবার বাংলাদেশে কিংবা ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে কিনা। মানসিক অবস্থা ঠিক রাখতে পারেনি। সেই কারণেই এই ঘটনা।” তৃণমূল নেতার কথায়, ”এসআইআর আতঙ্কে বহু মানুষ মারা গিয়েছেন৷ বাংলার মানুষকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর চক্রান্তের জন্যই এই ঘটনা৷ আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিষয়টি জানিয়েছি৷”

    অন্যদিকে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শুনানিতে ডাকার পর থেকেই তিনি আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন৷ ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকায় তিনি কোথায় যাবেন, তা নিয়ে চিন্তায় ছিল৷ শুক্রবার ভোরবেলা অ্যাসিডের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন৷ মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি তোলা হয়েছে। ভাইয়ের বউ দুর্গা দাস বলেন, ”এসআই আর আতঙ্ক ওনাকে গ্রাস করেছিল। শুনানি থেকে ফিরেই আত্মহত্যা করল। অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া বন্ধ হোক৷”

    শনিবার সকালে কাঁদতে কাঁদত মৃতের মেয়ে কল্পনা দাস বলেন, ”বাবাকে আতঙ্ক থেকে বার করতে অনেক বুঝিয়েছি । ২০০২ সালের তালিকায় ওনার নাম ছিল না৷ সেই আতঙ্ক থেকে উনি আত্মহত্যা করলেন৷ স্ত্রী প্রতিমা দাস বলেন, ”ওনাকে আতঙ্কিত হতে বারণ করেছিলাম৷ তবুও বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করল৷”

    অন্যদিকে বিশ্বজিৎ দাসের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল বলেন, ”যেকোনো মৃত্যু দুঃখজনক শুনেছি। তবে ওনার বাজারে অনেক দেনা ছিল ৷ তৃণমূল নেতারা ওনার তালিকায় নাম নেই বলে ওনাকে যে পরিমাণে ভয় দেখিয়েছেন, তাতেই হয়তো আত্মহত্যা করতে পারেন।” বিজেপি নেতার কথায়, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে পরিবারের মামলা করা উচিত ৷
  • Link to this news (প্রতিদিন)