• ধুমধামে মালদহে প্রত্যাবর্তন মৌসমের, গণির সমাধিতে মাথা ঠেকিয়ে বললেন, ‘তৃণমূলে যাওয়া ভুল ছিল’
    প্রতিদিন | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • বাবুল হক, মালদহ: তৃণমূলে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। দল বদলে কংগ্রেসে ‘ঘর ওয়াপসি’র দিন একথা বলেছিলেন। এবার নিজের গড়ে ফিরে তৃণমূলে যাওয়ার জন্য ‘মামা’ গণি খানের সমাধিতে মাথা ঠেকিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিলেন মৌসম বেনজির নুর। শনিবার কোতোয়ালি ভবনে প্রবেশ করার সময় প্রয়াত বরকত গণি খান চৌধুরীর ভাগনি মৌসম বললেন, “মামা গনি খানের মাজারে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিলাম। তৃণমূলে যাওয়ায় মামার কাছে ক্ষমা চেয়েছি।” তাঁর কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়াটা যে সঠিক পদক্ষেপ ছিল না, শনিবার বিকেলে কোতোয়ালির প্রাসাদে ঢুকে এমন ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করে সেটাই অন্তত বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নুর।

    কোতোয়ালির বাড়ির সামনে এদিন মৌসমকে স্বাগত জানাতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ফুলমালায় তাঁকে বরণ করলেন সকলে। সেই মঞ্চে তিনি বলেন, “এই জেলার মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। যখন তৃণমূলে ছিলাম তখনও। বিজেপির একটা আতঙ্ক কাজ করছিল। বিজেপিকে আটকাতে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলাম।” দীর্ঘ প্রায় সাত বছর তৃণমূলের সঙ্গে ‘ঘর করার’ পর ফের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করেছেন তিনি। এক সপ্তাহ আগে দিল্লিতে কংগ্রেসের ‘হাত’ ধরেন মৌসম।

    এদিন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেনে মালদহে ফেরেন প্রয়াত গণি খান চৌধুরির ভাগনি। আগে থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কংগ্রেস কর্মীদের ডাকা হয়েছিল মালদহ টাউন স্টেশনে। ট্রেন থেকে নেমে পড়তেই তাঁকে স্বাগত জানান দলীয় কর্মীরা। স্টেশন থেকে হুড খোলা গাড়িতে মৌসম কোতোয়ালি পৌঁছন। পিছনে মোটরবাইক নিয়ে দলের কর্মীরা শোভাযাত্রায় শামিল ছিলেন। প্রয়াত বরকত গনি খান চৌধুরীর মাজারে শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং বিশেষ প্রার্থনা সেরে কোতোয়ালি ভবনে প্রবেশ করবেন মৌসম নুর। তারপর কোতোয়ালিতেই একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, জেলা কংগ্রেস সভাপতি সাংসদ ইশা খান চৌধুরীরা।

    বিধানসভা ভোটের আগে মৌসমের দলবদল প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা মালতীপুরের বিধায়ক আবদুর রহিম বক্সি বলেন, “কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে এসেছিলেন, আবার কংগ্রেসে ফিরে গেলেন। এতে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে কোনওরকম প্রভাব পড়বে না। আমরা একুশ সালে ৮টি আসন পেয়েছিলাম। এবার জেলার মোট ১২টি আসনেই তৃণমূল জিতবে। মালদহের মানুষ ওঁদের কাউকে দেখে ভোট দেন না, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ভোট দেন।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)