• চিনা মাঞ্জা থেকে বাঁচতে চান, এখনই পরে ফেলুন ‘নেক শিল্ড’
    এই সময় | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, বর্ধমান: পৌষ মাসের শেষ দিনে মকর সংক্রান্তি। সেই দিনে ঘুড়ি উৎসবে মাতবে শহর বর্ধমান। আর সেই উৎসব নিয়ে রীতিমতো সতর্ক পুলিশ প্রশাসন। পথচলতি মানুষকে যে কোনও ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে পথে নেমেছে বীরহাটা সাব–ট্র্যাফিক পোস্ট।

    হঠাৎ এমন উদ্যোগ কেন? এই মুহূর্তে ঘুড়ি ওড়ানোর ক্ষেত্রে প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চিনা মাঞ্জা সুতো। সেই সুতোর তীক্ষ্ণতা এতটাই বেশি যে, কোনও ভাবে তা শরীর স্পর্শ করলে সেই অংশ কেটে ফাঁক হয়ে যাবে। অতীতে বেশ কিছু ক্ষেত্রে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। ফলে তেমন কোনও পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চায় না ট্র্যাফিক বিভাগ।

    এই উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছে একটি গল্পও। বছর কয়েক আগে হাওড়া ময়দান এলাকায় পোস্টিং ছিল ওসি চিন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ঘুড়ি উৎসবের আগে বীরহাটা এলাকা দিয়ে মোটরবাইক চালিয়ে যাওয়ার সময়ে চিনা মাঞ্জায় তাঁর গলা কেটে গিয়েছিল। চারটি সেলাই পর্যন্ত দিতে হয়েছিল সেই ক্ষত ঠিক করতে। চিন্ময় এখন দায়িত্বে রয়েছেন বীরহাটা সাব ট্র্যাফিক পোস্টের। সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি মনে রেখে তিনি নিয়েছেন অভিনব উদ্যোগ।

    শনিবার সারা দিন ধরে শহরের উল্লাস মোড়, বীরহাটা ও তেলিপুকুর এলাকায় প্রায় ৩০০ মানুষকে তিনি বিনামূল্যে বিতরণ করেন ‘নেক শিল্ড’। চিন্ময় বলছিলেন, ‘আমার ক্ষেত্রে যা হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলাম পুলিশ সুপারকে। তাঁর নির্দেশ মেনে প্রায় ৩০০ মানুষকে দিয়েছি নেক শিল্ড।’ এই নেক শিল্ড আসলে মোটা একটি কাপড়, যা পরতে হবে মাফলারের মতো।

    চিন্ময়ের কথায়, ‘এই ঠান্ডায় গলা যেমন রক্ষা পাবে, তেমনই চিনা মাঞ্জার হাত থেকেও পথচলতি মানুষ নিজেকে বাঁচাতে পারবেন। আমরা সবার কাছে অনুরোধ করেছি, মকর সংক্রান্তি থেকে আগামী ২–৩টি দিন এই নেক শিল্ড ব্যবহার করতে। তা হলে বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।’ নিজের গলার কাটা অংশ দেখিয়ে বললেন, ‘চারটি সেলাই দিতে হয়েছিল ওই ক্ষত সারাতে। চিনা মাঞ্জা বিপজ্জনক। আমরা এই সুতোর বিরুদ্ধেও অভিযান চালাচ্ছি।’

    পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হলেও শহরের বিভিন্ন দোকানে রীতিমতো বিকোচ্ছে চিনা মাঞ্জা ১৪ এবং ১৫ জানুয়ারি, এই দু’দিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় উড়বে ঘুড়ি। এই ঘুড়ির সুতো রাস্তায় থাকা মানুষের কাছে কখনও সখনও ধেয়ে আসে মৃত্যুবাণের মতো। পরিবেশকর্মী অম্লানকুসুম সাহা বলছিলেন, ‘পুলিশের এই উদ্যোগ অসাধারণ। আমরাও তো দেখেছি, বিভিন্ন গাছে বসে থাকা পাখিদের ডানা কী ভাবে কেটে গিয়েছে ওই চিনা মাঞ্জার দাপটে। অনেক পাখি এ ভাবে মারাও গিয়েছে। এ বার চিনা মাঞ্জা যারা বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।’

    উল্লাস মোড়ে এ দিনই নেক শিল্ড পেয়েছেন মিঠুন সরকার। তিনি বললেন, ‘ওই নেক শিল্ড ব্যবহার করবই। সঙ্গে অন্যদেরও বলব, অন্তত আগামী তিন–চারটি নেক শিল্ড পরেই তাঁরা যেন মোটরবাইক অথবা সাইকেল চালান।’

    জেলার পুলিশ সুপার সায়ক দাসের মন্তব্য, ‘আমরা অভিযান শুরু করেছি। বর্ধমান থানা প্রচুর পরিমাণ চিনা মাঞ্জা বাজেয়াপ্ত করেছে। আগামী কয়েকটি দিন ধারাবাহিক ভাবে চলবে এই অভিযান। ওসি ট্র্যাফিক নিজে নেক শিল্ড বিলি করেছেন। আশা করি, এ বার কোনও বিপদ হবে না।’

  • Link to this news (এই সময়)