• সঙ্কটাপন্ন প্রসূতিকে নিয়ে যেতে অস্বীকার অ্যাম্বুল্যান্স-চালকের
    এই সময় | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, কাটোয়া: সঙ্কটাপন্ন এক রোগিণীকে মারাত্মক হয়রান করার অভিযোগ উঠল অ্যাম্বুল্যান্সের চালকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার গভীর রাতে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ হয়রানির শিকার হয়েছেন যিনি, তাঁর নাম সাহিনা খাতুন। তাঁর বাড়ি মুর্শিদাবাদের সালারে।

    সদ্য প্রসূতি সাহিনাকে ওই রাতে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল থেকে ‘রেফার’ করা হয়েছিল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পরিবারের লোক ১০২ অ্যাম্বুল্যান্সে তাঁকে তুলতে গেলে চালক খারাপ ব্যবহার করতে থাকেন। সংকটজনক অবস্থায় প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয় তাঁকে৷ শেষে মহকুমা হাসপাতালে মোতায়েন পুলিশের হস্তক্ষেপে অ্যাম্বুল্যান্সের চালক তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে যান। এই ঘটনায় মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শনিবার ১০২ অ্যাম্বুলেন্স চালকদের জন্য নির্দিষ্ট ঘরটিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে৷

    জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের সালারের বাসিন্দা সন্তানসম্ভবা সাহিনাকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ শুক্রবার সকালে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি। কিন্তু রাতে ওই প্রসূতির শারীরিক অবস্থার বেশ অবনতি হওয়ায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ‘রেফার’ করা হয় তাঁকে এবং হাসপাতাল থেকেই এর জন্য ১০২ অ্যাম্বুলেন্সকে ডাকা হয়। সমস্যার সূত্রপাত তার পরেই।

    অভিযোগ, যে অ্যাম্বুল্যান্স আসে, সেটির চালক বলেন, রোগিণীর সঙ্গে পরিবারের যে দু’জন সদস্য রয়েছেন, তাঁরা বয়স্ক। বর্ধমান হাসপাতালে রোগিণীকে নামিয়ে ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে পারবেন না তাঁরা। তাই তিনি রোগিণীকে বর্ধমানে নিয়ে যাবেন না। এই নিয়ে বাদানুবাদ শুরু হলে মহকুমা হাসপাতালের বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মী ও হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরা চালককে কথা না–বাড়িয়ে দ্রুত রোগিণীকে বর্ধমানে নিয়ে যেতে বলেন। অ্যাম্বুল্যান্সের চালক তখন তাঁদেরও গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ।

    হাসপাতালের কর্মী রোশন সাউ শনিবার বলেছেন, ‘আমরা বার বার চালককে অনুরোধ করেছিলাম৷ উল্টে আমাদের যা–তা গালিগালাজ করা হয়েছে৷’ তিনি আরও জানিয়েছেন, শেষে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প থেকে পুলিশ গিয়ে বলায় চালক বাধ্য হয়ে ওই রোগিণীকে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে রওনা দেন।

    হাসপাতালের কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে পাঁচটি ১০২ অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেগুলির চালকরা নিজেদের মর্জি অনুযায়ী চলেন৷ রাতে কোনও রোগীকে তাঁরা বর্ধমানে নিয়ে যেতে চান না৷ অথচ করোনার সময়ে চালু হওয়া ১০২ অ্যাম্বুল্যান্সকে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্যই সরকারি হাসপাতালগুলিতে রেখেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

    এই রোগিণীর কোনও বিপদ হলে তার দায় তো হাসপাতালের উপরেই চাপত৷ এ প্রসঙ্গে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল এ দিন বলেন, ‘ঘটনা জেনেই আমরা ১০২ অ্যাম্বুল্যান্সের সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছি৷ পাশাপাশি জেলার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ১০২ অ্যাম্বুল্যান্সের অপারেটরকে ডেকে পাঠিয়েছি৷ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে৷’

  • Link to this news (এই সময়)