• ৭ বছরেও বর্ধমান রোডে উড়ালপুলের কাজ শেষ না হয়নি, রেলকেই দায়ী করলেন মেয়র
    বর্তমান | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: সাত বছরেও শেষ হল না বর্ধমান রোডের উড়ালপুলের কাজ। শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের দাবি, পূর্তদপ্তর তাদের কাজ ঠিকমতো করে চললেও রেল তার অংশের কাজ সময়ে শেষ করতে পারেনি এখনও। কাজেই উদ্বোধন কবে হবে তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মেয়র শনিবার রেলের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেন। বারবার বলেও রেল তার কাজ এখনও শেষ করতে না পারায় এদিন হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। 

    এদিন এই উড়ালপুল নিয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ নন্দী মেয়রকে ফোনে জানান, এই উড়ালপুলের কাজ শেষ না হওয়ায় মহানন্দাপাড়ার একটি অংশ সমস্যায় জর্জরিত। পার্কে জল জমে থাকছে। নর্দমাগুলি বালিতে ভরে রয়েছে। এর জবাব দিতে গিয়ে মেয়র একপ্রকার হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বারবার রেল সময় দিয়েও তাদের অংশের কাজ শেষ করতে পারছে না। যার জন্য বর্ধমান রোডের উড়ালপুলে উদ্বোধনের দিন আমরা প্রাথমিকভাবে ঠিক করলেও তা থেকে সরে আসতে হচ্ছে। 

    যদিও রেলের তরফে অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা বলেন, যতটুকু জানি  দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মধ্য দিয়ে রেল তার নিয়ম মেনে কাজ করছে। রেলের বিরুদ্ধে কেন কাজে ঢিলেমি বা অসহযোগিতার অভিযোগ করা হচ্ছে তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। 

    এই উড়ালপুল সাত বছর হয়ে গেলেও এখনও কাজ শেষ না হওয়ায় শহরবাসীর মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কিশোর সংঘের কাছে রেল লাইনের উপরের অংশে সেতুর কাজ করবে রেল। সেই মতো কাজ চলছে। কিন্তু পুরসভার অভিযোগ, কথা দিয়েও রেল একাধিকবার সময়ের মধ্যে সেই কাজ শেষ করতে পারেনি। ১১২৪ মিটার লম্বা এই উড়ালপুলের প্রথমে খরচ ধরা হয়েছিল ৪০ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। পড়ে নকশায় ত্রুটি ধরা পড়া এবং বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকায় খরচ অনেকটা বেড়ে যায়। বাড়তি অর্থ বরাদ্দ হওয়ার পর পূর্তদপ্তর যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। এই উড়ালপুল চালু হয়ে গেলে শিলিগুড়ি শহরের একটি বড় অংশে যান চলাচলে গতি আসবে। যানজট সমস্যারও অনেকটা সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মেয়র। তিনি বলেন, এই উড়ালপুলের নীচে অনেকটা ফাঁকা জায়গা থাকবে। তা পুরসভার নিজস্ব পরিকল্পনায় ব্যবহার করা হবে। • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)