সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বোর্ড অব কাউন্সিলারদের বৈঠকে অবশেষে পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্রের ইস্তফা গৃহীত হল। সর্বসম্মতিক্রমে ইস্তফাপত্র গ্রহণ করলেন শাসকদলের ২৩ জন কাউন্সিলার। তারপরেই সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলেন অশোক ও তাঁর অনুগামী কাউন্সিলাররা।
সূত্রের খবর, শনিবার থেকে পুরসভার চেয়ারম্যান পদ ফাঁকা হয়ে গেলেও নতুন কাউকে নির্বানের ব্যাটন এখনও অশোকের হাতে। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী বিদায়ী চেয়ারম্যানকেই বৈঠক ডাকতে হবে। তবে, অশোক এই বৈঠক ডাকবেন কি না, তা নিয়ে এখনও সন্দিহান অনেকে। পুর আইন মোতাবেক বিদায়ী চেয়ারম্যানের হাতে সাতদিন সময় থাকবে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের বৈঠক ডাকার। তাঁর পরিবর্তে এই বৈঠক ডাকতে পারেন ভাইস চেয়ারপার্সন। বালুরঘাট পুরসভায় ভাইস চেয়ারপার্সন না থাকায় নতুন করে তিনজন কাউন্সিলারও বৈঠক ডাকতে পারবেন। ফলে আইনি জটিলতায় ঝুলেই থাকল নির্বাচনের পালা।
পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার অজয়কুমার প্রসাদ বলেন, শনিবার অনাস্থার বৈঠক হয়েছে। ২৩ জন কাউন্সিলারের সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে চেয়ারম্যানের ইস্তফাপত্র। পুরসভায় এখন চেয়ারম্যান পদ ফাঁকা হল। নিয়ম অনুযায়ী, বিদায়ী চেয়ারম্যানকে সাতদিনের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য বৈঠক ডাকতে হবে। তা না হলে পরবর্তীতে বাকি কাউন্সিলাররা বৈঠক ডাকতে পারবেন। যতদিন না পর্যন্ত নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন, পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যা হবে না।
পুরসভা সূত্রে খবর, এদিনের বৈঠকে শাসকদলের ২৩ জন কাউন্সিলারই উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন। বাকি ৬ জন ছিলেন অশোকের পক্ষে। গত ৩১ ডিসেম্বর অশোক ইস্তফা দিয়েছিলেন। এদিন দুপুর একটায় বৈঠক শুরুর পরেই অশোকপন্থী এবং বিদ্রোহী কাউন্সিলারদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা লেগে যায়। এক কাউন্সিলার অশোকের পক্ষ নিয়ে দলের মধ্যে ভাঙনে বিদ্রোহীদের দায়ী করেন। এর প্রতিবাদ করেন বিদ্রোহী শিবিরের এক মহিলা কাউন্সিলার। অনাস্থা বৈঠকের পর অশোকপন্থী এক মহিলা কাউন্সিলার চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। পরে গন্ডগোল মিটে যায়। অশোকপন্থী কাউন্সিলাররা বেরিয়ে যেতেই সুবর্ণতট ভবনে পৌঁছন দলের টাউন সভাপতি সুভাষ চাকি। সুভাষের নেতৃত্বে বিদ্রোহী কাউন্সিলাররা বৈঠক শুরু করেন। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তাঁরা একপ্রস্থ আলোচনা সেরে নেন। এদিন বামেদের দুই কাউন্সিলার অনাস্থা বৈঠকে যোগ দেননি।
অশোক বলেন, দলের নির্দেশে ইস্তফা দিয়েছিলাম। আজ বোর্ড অব কাউন্সিলারদের মিটিংয়ে ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর প্রশাসনিকভাবে যা করণীয়, দলের নির্দেশমতো পালন করব।