• শুনানিতে অসুস্থ বৃদ্ধা, চিকিত্সা করাতে চাঁদা তুলছেন প্রতিবেশীরা
    বর্তমান | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, চাঁচল: এসআইআর শুনানিতে গিয়ে ফের অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ উঠল চাঁচলে। কাজ না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়লেন বৃদ্ধা। পরে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পরিবার। 

    চাঁচল ১ ব্লকের মকদমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর বসন্তপুরের হামিদা বেওয়ার পরিবারে রয়েছেন একমাত্র ছেলে। মায়ের আকস্মিক অসুস্থতায় চিকিৎসার খরচ জোগানো নিয়ে ভীষণ চিন্তায় পড়েছেন তিনি। আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ায় চাঁদা তুলে  চিকিৎসা করানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন প্রতিবেশীরা। শনিবার চিকিৎসার জন্য বৃদ্ধাকে বিহারের একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছে পরিবার।

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিদার স্বামী প্রায় ৩০ বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। ২০০২ সালের খসড়া তালিকায় হামিদা সহ তাঁর পরিবারের কারও নাম নেই। সেজন্য তাঁদের শুনানিতে ডাক পড়ে। শুক্রবার চাঁচল ১ ব্লক নির্বাচন সেলে শুনানি পর্বে হাজির হন হামিদা। তাঁর নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট দেখানো হয়। তাতে কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। নির্বাচন কমিশনের তরফে জমির দলিল আনার জন্য বলা হয় বলে দাবি। বৃদ্ধার ছেলে আব্দুর রহিম বলেন, জমির দলিল আনতে বলা হয়েছিল। ব্লক অফিস থেকে বের হওয়ার পরই মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁ বাম হাত-পা অকেজো হয়ে গিয়েছে। কথাও বলতে পারছেন না। সম্ভবত পক্ষাঘাতগ্রস্ত। শুনানিতে না গেলে এই অবস্থা হত না।

    হামিদার এমন দুর্দিনে যতটা সম্ভব পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন প্রতিবেশীরা। প্রতিবেশী মোজাম্মেল আলি বলেন, নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য বার বার শুনানিতে যাওয়া বয়স্কদের পক্ষে খুবই কষ্টকর। হামিদার ছেলে দিনমজুর। আর্থিকভাবে পরিবারটি দুর্বল হওয়ায় চিকিৎসার জন্য চাঁদা তুলছি।

    চাঁচলের মহকুমা শাসক ঋত্বিক হাজরা বলেন, নথিপত্রে যাঁদের সমস্যা রয়েছে, তাদেরই শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। শুনানিতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।

    এই ঘটনায় বিজেপিকে নিশানা করে চাঁচলের তৃণমূল বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ বলেন, মানুষকে হয়রান করার জন্যই বিজেপির চক্রান্তে এসআইআর শুরু হয়েছে। এলাকার প্রান্তিক মানুষের কাছে সব সময় সব নথি থাকে না। বিজেপি মানুষকে ভয় দেখিয়ে বাংলা দখলের চেষ্টা করছে।

    পাল্টা উত্তর মালদহের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিঙ্ঘানিয়া বলেন, বৃদ্ধার সুস্থতা কামনা করছি। এসআইআর নিয়ে তৃণমূল কেন ভয় পাচ্ছে, তা সবাই জানে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)