সংবাদদাতা, তুফানগঞ্জ: শনিবার কলেজে পরীক্ষা শুরুর আগে এক পড়ুয়াকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তাঁরই কয়েকজন সহপাঠীর বিরুদ্ধে। আক্রান্ত আমির হামজা শেখ নামে ওই ছাত্র তুফানগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ে এডুকেশন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের তৃতীয় সেমেস্টারে পড়ুয়া। জখমের দাবি, তাঁকে মারধরের ঘটনায় যুক্তরা প্রত্যেকেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ঘনিষ্ঠ। তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এদিকে, খবর পেয়ে কলেজে এবং হাসপাতালে পৌঁছয় তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ।
শনিবার কলেজে টেস্ট পরীক্ষা ছিল। এদিনই ছিল শেষ পরীক্ষা। অন্যদিনের মতো পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন এডুকেশন অনার্সের তৃতীয় সেমেস্টারের ছাত্র আমির হামজা শেখ। পরীক্ষা শুরুর আগে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে আমির বলেন, কলেজে পরীক্ষা ছিল। রুমে ঢোকার পর বেঞ্চে বসা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ থেকেই আমাকে বিরক্ত করছিল কয়েকজন। অন্য জায়গায় গিয়ে পরীক্ষা দিতে বললে আমি না মানায় আমার ওপর ওরা চড়াও হয়। মেঝেতে ফেলে মাথায়, বুকে এলোপাথাড়ি মারে। এতে আমি জখম হই। পরবর্তীতে আমার বন্ধুরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ওরা টিএমসিপি ঘনিষ্ঠ।
আর এই ঘটনা নিয়েই সুর চড়িয়েছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। সংগঠনের তুফানগঞ্জ নগর সম্পাদক সম্রাট সরকার বলেন, কলেজে শিক্ষার পরিবেশ বলে কিছু নেই। পরীক্ষা দিতে এসেও টিএমসিপি সদস্যদের হাতে আক্রান্ত হতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীকে। অভিযুক্তদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা। আর তা না হলে আগামীতে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।
যদিও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কোচবিহার জেলা সভাপতি অনির্বাণ সরকার বলেন, এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ। অভিযুক্তদের সঙ্গে আমাদের সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই। কলেজের টিআইসি বিশ্বজিৎ অধিকারী বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। ওই ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা যুক্ত তা দেখা হবে। অন্যদিকে, তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনা নিয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে পুলিশ গিয়ে জখম ছাত্রের সঙ্গে কথা বলে এসেছে। • নিজস্ব চিত্র।