নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: বিজেপিকে রুখতেই তৃণমূলে গিয়েছিলাম। দলবদলের পর মালদহে ফিরে মন্তব্য করলেন মৌসম বেনজির নুর। কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের পর শনিবার দুপুরে মালদহে ফেরেন মৌসম। এদিন ঘরের মেয়েকে স্বাগত জানাতে মালদহ স্টেশনে জমায়েত করেছিলেন কয়েক শতাধিক কংগ্রেস সমর্থক। মৌসম বলেন, এত মানুষের আবেগ, ভালোবাসা, উষ্ণ অভ্যর্থনা পাব ভাবতে পারিনি। মনে হচ্ছে ঘরে ফিরেছি। এখন ঐক্যবদ্ধ লড়াই করে কংগ্রেসকে মজবুত করাই লক্ষ্য।
তৃণমূলে গিয়ে কি ভুল করেছিলেন? উত্তরে মৌসম বলেন, বিজেপিকে আটকানোর জন্যই তৃণমূলে গিয়েছিলাম। কংগ্রেসিরা আমার সিদ্ধান্তে কষ্ট পেয়েছিলেন। তবে, তখন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার ছিল। আশা করছি, বিধানসভা ভোটে মালদহ সহ রাজ্যে কংগ্রেসের ফল ভালো হবে। কারণ রাজ্যের মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। আমাকে দিয়ে সেটা শুরু হল।
মৌসম যোগ করেন, দেশজুড়ে আমাদের লড়াই বিজেপির সঙ্গে। রাজ্যে লড়াই বিজেপি ও তৃণমূলের সঙ্গে। আমাকে দেখে অনেকে তৃণমূলে গিয়েছিলেন। এখন তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন কংগ্রেসে ফিরবেন কিনা।
দুপুর দুটো নাগাদ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে মালদহ টাউন স্টেশনে পৌঁছন মৌসম। এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে তখন শয়ে শয়ে কংগ্রেস কর্মী হাতে ফুল নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায়। মৌসমের প্রত্যাবর্তন কংগ্রেসের কাছে যে বাড়তি অক্সিজেন, তা বলাই বাহুল্য। স্টেশনে বাইরেও ভিড় করেছিলেন কয়েকশো মানুষ। ভিড় ঠেলে বাইরে এসেই হুড খোলা জিপে ওঠেন মৌসম। এরপর সেখান থেকে মিছিল করে কংগ্রেস কর্মীরা কোতোয়ালিতে যান। এরপর গনিখান চৌধুরীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মৌসম। এদিন কোতোয়ালি ভবনের সামনে মঞ্চ বেঁধে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়। কংগ্রেসে যোগদানের পরেই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। তবে কি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হাত চিহ্নে প্রার্থী হচ্ছেন? মৌসম বলেন, কোনও শর্ত দিয়ে কংগ্রেসে ফিরিনি।
মালদহ জেলা কংগ্রেস সভাপতি ঈশা খান চৌধুরীর মন্তব্য, মৌসম কংগ্রেসের ফিরুন, কোতোয়ালি পরিবার এক হয়ে যাক, এটা কংগ্রেস কর্মীদের দাবি ছিল। মৌসম কংগ্রেসে ফেরায় দল আরও মজবুত হবে।
এদিকে মৌসমের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সির দাবি, একসময় তৃণমূল ভালো লেগেছিল। এখন পরিবর্তনের কথা বলছেন। রাজ্যে যখন কংগ্রেস শূন্য, তখন তিনি একা কী করে পরিবর্তন আনবেন?